নতুন বছরের শুরুতেই বহির্বিশ্বে আইসিটি পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে, ডিসপ্লে প্যানেল, প্রসেসর, মেমোরি চিপ, স্টোরেজ ডিভাইস, এসএসডি ও কপার ছাড়াও জরুরি কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের দাম ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি পুরো বছর অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষক ও আইসিটি গবেষকরা বলছেন, জরুরি এসব পণ্যের দাম গড়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের আইসিটি পণ্যে এর বিরূপ প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো– বিশ্বে এআই প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সেমিকন্ডাক্টর পণ্যের অতিরিক্ত চাহিদা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ইলেকট্রিক ভেহিক্যালভিত্তিক শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণ, বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিদেশি সরবরাহ চেইনের বিঘ্ন, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কপার ছাড়াও বেশ কিছু ধাতব কাঁচামালের সংকট।
বিশেষ করে আইসিটি পণ্যে ব্যবহৃত ডিসপ্লে প্যানেল, প্রসেসর, মেমোরি (র্যাম/রম), এসএসডি, হার্ডডিস্ক ও নেটওয়ার্কিং যন্ত্রাংশে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অপেক্ষাকৃত বেশি পড়তে পারে। বাংলাদেশের আইসিটি খাতের কাঁচামালের বড় অংশ পুরোপুরি আমদানিকেন্দ্রিক। তাই এই বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব দেশে অনুভূত হবে, সেটিই স্বাভাবিক।
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে, সারাবছর আইসিটি পণ্যের কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের দাম বাড়তে পারে। এ ছাড়া চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিসিএস দেশের সব আইসিটি পণ্য ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, পরিবেশক ও গ্রাহককে আগাম অবহিত করছে অর্ডার প্রদান ও ভবিষ্যৎ অর্ডার গ্রহণে সতর্ক থাকতে ও সরবরাহ চেইনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করতে। জরুরি পণ্য আমদানিতে অগ্রিম পরিকল্পনা, মজুত ব্যবস্থাপনা, গ্রাহকের সঙ্গে স্বচ্ছ যোগাযোগ বজায় রাখা ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।