এক জমিতে ৪৮ জাতের ফসল

Date: 2026-01-13
news-banner

এক একর জমিতে ফলেছে ১৫ ফসলের ৪৮ জাত। তার মধ্যে রয়েছে শুধু করলারই পাঁচ হাইব্রিড জাত– পিয়াল, পিয়াল প্লাস, পাশা, পায়েল ও প্রিয়া। প্রতি একর জমিতে ৪০ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যে এ জাতের ফলন হয় ৯ থেকে ১৮ মেট্রিক টন। প্রতিটি করলার ওজন হয় ১০০ থেকে ৩০০ গ্রাম।

খামারের বড় আকর্ষণ হলো– রয়েল রেড, অ্যাম্বার সুইট, রেড কিং, মিঠাই ও বাংলালিংক নামে পাঁচ জাতের হাইব্রিট তরমুজ। রেডহট ও রয়েল রেড নামে দুই জাতের হাইব্রিট মরিচ। প্লাটিনাম প্রো, বিপ্লব সুপার, বিপ্লব ও টিপি-৪০৬ নামে চার জাতের পেঁয়াজ। ভালো ফলন হয়েছে নয় জাতের হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়ারও। 

প্রযুক্তি প্রয়োগ ও উন্নতমানের বীজ বপন করে স্বল্প সময়ে বেশি ফলনের অনন্য নজির স্থাপন করেছে ইস্ট ওয়েস্ট সিড। সীতাকুণ্ড উপজেলার বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের ইস্ট ওয়েস্ট সিডের পরীক্ষামূলক খামারে এই ফলন সম্ভব হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলছে। 
সরেজমিন দেখা যায়, ইস্ট ওয়েস্ট সিডের খামারে নয় জাতের হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়ার ফলন হয়েছে। সেগুলো হলো– গিরি, বেহুলা, র‍্যাপিড প্রো, গিরিত সুগার, দরদি, প্রণয় সুগার, বধুয়া, বাটারনাট গ্রিন ও আঁকি। প্রতি একর জমিতে ৪৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে এ জাতের ফলন হয় ১৫ থেকে ১৮ মেট্রিক টন। প্রতিটি কুমড়ার ওজন দুই থেকে ছয় কেজি পর্যন্ত।
এ ছাড়া রয়েছে উন্নত জাতের হাইব্রিড, দোতারা সুপার ও একতারা। ভাদুরী ও তামিম প্লাস নামে দুই জাতের শসাও রয়েছে। প্রতিটি শসা চারা রোপণের পর ৪০-৪৫ দিনের মধ্যে ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজানের ফলন হয়।

রয়েছে দুর্জয় প্লাস, গুলফাম ও সুখী নামে তিন জাতের টমেটো। সুন্দর ও এক্সপ্রেস নামে দুই জাতের হাইব্রিট ঢ়্যাঁড়শ। ভেনাস, নিলম ও মানিক প্লাস নামে তিন জাতের হাইব্রিট ধুন্দল। আলেকজান্ডার ও মহাবীর নামে হাইব্রিট ঝিঙা। ৫৫ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার লম্বা ওন্ডার গ্রিন, সামার ফিল্ড, অ্যাপল গ্রিন ও গ্রিনল্যান্ড নামে চার জাতের হাইব্রিট বরবটি। হানি কর্ন নামে হাইব্রিট সুইট কর্ন, রেড গান-২ নামে হাইব্রট পেঁপে। সারাবছর ফলনের হাইব্রিট মুলা হোয়াইট নোভা ও মার্চ থেকে অক্টোবরে ফলনের আর্লি কুইন-৩৫ মূল্য ফলনের উৎপাদন ও প্রদর্শনী হয়েছে ২০ শতকের এক কৃষিজমিতে।     
ইস্ট ওয়েস্ট সিডের প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, ‘দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে ঘরবাড়ি। এ কারণে কমছে কৃষিজমি। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় কৃষকরাও চাষবাসে এগিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকদের চিন্তাধারা কীভাবে অল্প সময়ে ভালো ফলন পাওয়া যায়। ইস্ট ওয়েস্ট সিডের খামারের ফলন প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রযুক্তি থাকলে আমাদের চাষিরা দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণ করে বিশ্ববাজারেও অবদান রাখবেন।’
সিডের কান্ট্রি ম্যানেজার মোস্তফা কামাল বলেন, ‘উন্মুক্ত মাঠ দিবসে ১৫টি ফসলের ৪৮টি জাত প্রদর্শিত হয়েছে। উন্নত প্রজাতির এই ফসলগুলো কৃষকদের মধ্যে আশার প্রদীপ জালিয়েছে। তারা উন্নতমানের ফলন ফলিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজে নিচ্ছেন।’

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News