চাপে ভেনেজুয়েলা, পঞ্চম ট্যাঙ্কার আটক
Date: 2026-01-11
ভেনেজুয়েলার ওপর এখনও চাপ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির তেল অবকাঠামোর পাশাপাশি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের প্রতিও নজরদারি রাখছে ওয়াশিংটন। এ অবস্থায় ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার আরেকটি তেল ট্যাঙ্কার আটক করেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় থাকা তেল ট্যাঙ্কারগুলো একে একে আটক করার পরিকল্পনার কথা যুক্তরাষ্ট্র আগেই জানিয়েছিল। শুক্রবার এক বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক সাউদার্ন কমান্ড বলেছে, তাদের বাহিনী কোনো বাধা ছাড়াই ‘ওলিনা’ নামে ট্যাঙ্কারটিকে আটক করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে আলজাজিরা।
তবে কেন ট্যাঙ্কারটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল তা বলা হয়নি। ট্যাঙ্কারটির ব্যাপারে অভিযোগের বিশদ বিবরণও দেওয়া হয়নি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, রাশিয়ান তেল পরিবহনের জন্য ওয়াশিংটন ট্যাঙ্কারটিকে আগেই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। এর আগে মার্কিন বাহিনী দুটি তেল ট্যাঙ্কার আটক করে। এর মধ্যে রাশিয়ান পতাকাবাহী ‘মেরিনেরা’ তেল ট্যাঙ্কারও ছিল।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, উত্তর আটলান্টিকে আটক করা সর্বশেষ জাহাজের ক্রুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করছে। রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের ‘ঘোরতর লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্রুদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
গত সপ্তাহে এক অভিযানে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। পরে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তাঁর বিচার করা হচ্ছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে কোকেন পাচারসহ অস্ত্র ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলায় কবে বা আদৌ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা– এ বিষয়ে ট্রাম্প কোনো মন্তব্য করেননি।
এর আগে বুধবার হোয়াইট হাউস জানায়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ভেনেজুয়েলার তেল অনির্দিষ্টকালের জন্য নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানান, কারাকাসের অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব জরুরি।
নিউইয়র্ক টাইমসকে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রদ্রিগেজের সঙ্গে সর্বদা যোগাযোগ রাখছেন। রদ্রিগেজ আমাদের প্রয়োজনীয় সবকিছুই দিচ্ছেন। তবে রদ্রিগেজকে ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কারণ সম্পর্কে ট্রাম্প কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদের ব্যাপারে ট্রাম্প বলেন, তাঁর পক্ষে নেতা হওয়া খুবই কঠিন হবে। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় আটকে থাকা পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল পরিশোধন ও বিক্রি করার পরিকল্পনা উন্মোচন করেছেন।
ট্রাম্পের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ
ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ বন্ধ করতে মার্কিন সিনেটে প্রস্তাব পাস হয়েছে। যুদ্ধক্ষমতা-সংক্রান্ত এ প্রস্তাব (ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন) নিয়ে গতকাল আলোচনার পক্ষে ৫২ ও বিপক্ষে ৪৭ জন সিনেটর ভোট দিয়েছেন। এমনকি রিপাবলিকান পার্টির কয়েক সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
একই সঙ্গে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের হুমকি থেকে সরে এসেছেন। কলম্বিয়ার বামপন্থি নেতা প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর কড়া সমালোচনা করলেও এখন তাঁকে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প।
রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি
ভেনেজুয়েলার শীর্ষ আইনপ্রণেতা হোর্হে রদ্রিগেজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি ও ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই মুক্তি দেশটির রাজনৈতিক বিরোধীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এবং এটি একটি শান্তির নিদর্শন। মাচাদোসহ বিভিন্ন নেতা ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। দেশটিতে বর্তমানে ৮৬৩ জন রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন।
মাচাদোর সঙ্গে দেখা করবেন ট্রাম্প
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মাচাদো আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন। ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি মাচাদোর সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করছেন কিনা। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি আগামী সপ্তাহেই আসছেন এবং আমি তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’ মাচাদোর সঙ্গে এটিই হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের প্রথম সাক্ষাৎ। এই সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, অক্টোবরে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পর মাচাদো তাঁর সঙ্গে কথা বলেননি। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে তেল নির্বাহীদের সঙ্গেও দেখা করেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ট্রাম্পের পদক্ষেপ ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের জন্য ভালো
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে শান্তির জন্য ভালো। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। তিনি বলেন, অবৈধ মাদক চক্র রাজস্বের একটি প্রধান উৎস ছিল, এখন তা নির্মূল করা হয়েছে। ভ্যান্সের দাবি, ট্রাম্প শান্তির প্রেসিডেন্ট। আমরা মাদক চক্রের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে শান্তির পশ্চিম গোলার্ধ সৃষ্টি করতে চাই।

