বিক্রি নিয়ে খুশি ব্যবসায়ীরা কেনাকাটায় সন্তুষ্ট ক্রেতাও

Date: 2026-01-11
news-banner

রাজধানীর উপকণ্ঠ রূপগঞ্জের পূর্বাচলে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ছিল ব্যাপক ভিড়। বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে এ মেলায় সকাল থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুর গড়াতেই মেলা প্রাঙ্গণে নামে জনস্রোত। হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এতে বিক্রেতাদের মুখেও ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি।

প্রতিবারের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে কসমেটিকস, পোশাক, গৃহস্থালির তৈজসপত্র ও ক্রোকারিজ পণ্যের স্টলগুলোতে। পাশাপাশি বিভিন্ন খাবারের স্টলেও ছিল সরব উপস্থিতি। কেউ এসেছেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে। দর্শনার্থীদের কেউ খুঁজছেন ঘর সাজানোর সামগ্রী, কেউ নিজের জন্য প্রসাধনী কিংবা পোশাক। তরুণদের পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

সারাদিন স্টল ঘুরে ঘুরে পছন্দের পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। কেউ ব্যস্ত ছবি তুলতে, কেউ আড্ডায় মেতে উঠেছেন। আবার কেউ সাধ ও সাধ্যের মধ্যে ফার্নিচার কিনছেন। ছাড় ও বিশেষ অফারের খোঁজে অনেককেই এক স্টল থেকে অন্য স্টলে ছুটতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এমন ভিড়ে বেচাকেনাও জমে উঠেছে।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে চব্বিশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনী ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’-এ। এ ছাড়া কারাবন্দিদের হাতে তৈরি দেশীয় ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের পণ্য ঘিরেও ছিল আগ্রহ। এসব পণ্য দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
শিশুদের বিনোদনের জন্য আলাদা শিশু পার্কে প্যাডেল বোট, নাগরদোলা, ট্রেন, নৌকা, হেলিকপ্টারসহ নানা রাইডে চড়তে দেখা গেছে ছোটদের। এদিকে হাজী বিরিয়ানি, তুর্কি রেস্টুরেন্ট, মিঠাই, ঝটপট, টেস্টি ট্রিটসহ বিভিন্ন খাবারের স্টলে ভোজনপ্রেমীদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। আরএফএল, প্রাণ, দুরন্ত বাইসাইকেল, বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পোশাক ব্র্যান্ড, ঢাকাই জামদানি, শীতের চাদর, জুতা, গৃহস্থালি সামগ্রী, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, মোটরসাইকেল, স্কুটি ও অ্যালুমুনিয়াম সামগ্রীসহ নানা পণ্যে সাজানো প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলো ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। 
সাওঘাট এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থী শাহানা পারভীন বলেন, ‘ছুটির দিন থাকায় পরিবার নিয়ে মেলায় আসা হয়েছে। সবার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কেনাকাটা করেছি। মেলায় পণ্যের বৈচিত্র্য বেশ ভালো।’ 
মেলা কর্তৃপক্ষ জানায়, মেলায় প্রবেশ মূল্য বড়দের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই আন্দোলনে আহত ও প্রতিবন্ধীরা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন।
মেলার অপারেশন ইনচার্জ এস এম আমিনুল ইসলাম বলেন, শৈত্যপ্রবাহের কারণে প্রথম কয়েক দিন দর্শনার্থী কম ছিল। ষষ্ঠ দিনে প্রায় ১৮ হাজার দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল। তবে প্রথম শুক্রবারে অর্ধ লাখের বেশি মানুষ মেলায় এসেছেন।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News