ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা সুস্থ থাকার কৌশল

Date: 2026-01-11
news-banner
ক্যান্সার বর্তমান বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক রোগ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি সত্ত্বেও ক্যান্সারে মৃত্যুর হার এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। অনেক সময় ক্যান্সার নিঃশব্দে শরীরে বাসা বাঁধে এবং রোগ ধরা পড়ে তখনই, যখন তা জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তবে সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই ক্যান্সার প্রতিরোধ বা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব।
কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি শৈশব থেকেই শুরু হতে পারে। শরীরে থাকা নির্দিষ্ট কিছু পলিপ ভবিষ্যতে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। আবার কিছু জিনগত রোগ রয়েছে, যেগুলোর ফলে পরবর্তী জীবনে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ ছাড়া পারিবারিক ইতিহাস থাকলে স্তন, অন্ত্র বা রক্তের ক্যান্সারের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে হাড়, ফুসফুস ও রক্তের ক্যান্সারের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া জীবনযাপনের ধরন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে বড় ভূমিকা রাখে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধূমপান ও মদ্যপান ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।
ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি ও ফলমূল রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ধূমপান থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা। শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন টের পেলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত হলে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
লেখক: বিভাগীয় প্রধান, শিশু কার্ডিওলজি বিভাগ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল
advertisement image

Leave Your Comments

Trending News