ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অর্থনীতি, শিল্প, বন্দর, রপ্তানি ও মানুষের জীবনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। অথচ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, মোগরাপাড়া, পিরোজপুর, টিপরদী ও কাঁচপুরসংলগ্ন অংশে যা ঘটছে, তা দেখে আর বলা যায় না যে এখানে ন্যূনতম নিরাপত্তা রয়েছে। এখানে এখন আইন কাজ করে না, নিয়ম চলে না। এখানে চলছে এক ধরনের অঘোষিত অপরাধ শাসন। তাহলে রাষ্ট্রের কাজটা কী? দিনের পর দিন যেভাবে ছিনতাই ও পরিবহন ডাকাতি ঘটছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ, সুসংগঠিত, পরীক্ষিত অপরাধ ব্যবস্থা। যানজট হলেই অপরাধীরা নামে, অনেক সময় নিজেরাই যানজট তৈরি করে। ৮ থেকে ১২ জনের সশস্ত্র দল পিস্তল, চাপাতি, রামদা হাতে গাড়িতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, গ্লাস ভাঙে, যাত্রীদের গুরুতরভাবে কুপিয়ে জখম করে, কয়েক মিনিটে সর্বস্ব লুটে নিয়ে স্থানীয় রাস্তা ও আবাসিক এলাকায় মিলিয়ে যায়। এই দৃশ্য একবার নয়, বারবার ঘটছে। আর কোনো অপরাধ যখন স্বাভাবিক হয়ে যায়, তখন সেটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতার সর্বোচ্চ পর্যায় নির্দেশ করে। এই মহাসড়কে প্রবাসী নাগরিক এখন সবচেয়ে অসহায়। একজন মানুষ বিদেশে বছরের পর বছর শ্রম দিয়ে দেশে আসেন। আবার কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নেন। এই সড়কে তাঁর পাসপোর্ট, ভিসা, টিকিট ও সঞ্চিত অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তাঁর জীবিকা থেমে যায়, ভবিষ্যৎ হয়ে পড়ে অনিশ্চিত। অথচ রাষ্ট্র নির্বিকার। একইভাবে রাজনৈতিক কর্মীরাও প্রকাশ্য সড়কে হামলার শিকার হচ্ছেন। রক্ত ঝরছে, শরীর ভাঙছে, কিন্তু অপরাধীরা জানে–তাদের জন্য কোনো ভয় নেই। এই বার্তাটি ভয়াবহ–এই দেশে রাজনৈতিক পরিচয়ও আর নিরাপত্তা দেয় না। সবচেয়ে বিপজ্জনক সত্য হলো, মানুষ এখন থানায় যেতে ভয় পায়। অভিযোগ মানেই হয়রানি, হুমকি, দীর্ঘসূত্রতা এবং শেষ পর্যন্ত কোনো ফল না পাওয়া।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more