প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচার নিষিদ্ধ: ইসি

Date: 2026-01-07
news-banner

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা চালানো যাবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সে অনুযায়ী আগামী ২১ জানুয়ারির আগে ভোটের প্রচার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

আজ সোমবার ইসি’র পরিচালক (জনসংযোগ) রুহুল আমিন মল্লিকের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনি প্রচারণা করতে পারবেন না। 

এতে আরও বলা হয়, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা মেনে প্রচারণার জন্য নির্বাচন কমিশন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনি প্রচারণা সমাপ্ত করতে হবে।

৮৩ পর্যবেক্ষককে আমন্ত্রণ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে ৮৩ জন বিদেশি পর্যবেক্ষককে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইসি। এসব দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে অবস্থানকালে পাঁচ তারকা মানের হোটেলে রাখা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইসি সূত্র বলছে, ২৬টি দেশ ও সাতটি আন্তর্জাতিক সংস্থার ৮৩ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশন প্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তারা ভোট পর্যবেক্ষণে এলে তাদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা ইসি করবে। পাশাপাশি ভোটের দিন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যানবাহনের ব্যবস্থাও করা হবে। 

ইসির জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক আশাদুল হক জানান, যেসব দেশের নির্বাচন কমিশন প্রধান ও প্রতিনিধিদের ইসি আমন্ত্রণ জানাবে, তাদের বাংলাদেশে আসা-যাওয়ার বিমান ভাড়া ছাড়া অন্যান্য সব খরচ কমিশন বহন করবে। এছাড়া তাদের থাকার জন্য পাঁচ তারকা মানের হোটেলের ব্যবস্থাও করা হবে। ভোটের দিন এসব অতিথিকে ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণে নিরাপত্তাসহ গাড়ি দেওয়া হবে। তারা চাইলে বাংলাদেশের যেকোনো স্থানের ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণে যেতে পারবেন।

তিনি জানান, স্বপ্রণোদিত হয়ে যেসব বিদেশি পর্যবেক্ষক বা গণমাধ্যম নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসতে চান, তাদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে আবেদন করতে হবে। ইসি যাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, তাদের ১৭ জানুয়ারির মধ্যে কমিশনকে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

ভোট পর্যবেক্ষণে আমন্ত্রিত দেশগুলো হচ্ছে- অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জর্জিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন, রোমানিয়া, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, থাইল্যান্ড, উজবেকিস্তান, তুরস্ক, ভুটান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও মালদ্বীপ। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো হচ্ছে- সার্ক, কমনওয়েলথ, ওআইসি, অ্যানফ্রেল, এ-ওয়েব, আইআরআই ও এনডিআই।

এর আগে এসব দেশ ও সংস্থার নির্বাচন কমিশন প্রধান বা প্রতিনিধিদের আসন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় ইসি। ওই চিঠিতে নির্বাচন কমিশন প্রধানদের নাম, যোগাযোগের ঠিকানা ও ই-মেইল নম্বর চাওয়া হয়।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০টি বিদেশি পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানের ৫১৭ জন এবং স্থানীয়ভাবে ৮৪টি পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানের ২০ হাজার ২৫৬ জনকে ভোট পর্যবেক্ষণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন ৮১টি দেশি পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানের ২৫ হাজার ৯০০ জন প্রতিনিধি। এছাড়া ফেমবোসা, এএইএ, ওআইসি ও কমনওয়েলথ থেকে আমন্ত্রিত ৩৮ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক, বিভিন্ন বিদেশি মিশনের ৬৪ জন কর্মকর্তা এবং দূতাবাস ও বিদেশি সংস্থায় কর্মরত ৬১ জন ব্যক্তি ভোট পর্যবেক্ষণ করেন।

২০১৪ ও ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। পরে এসব নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে তারা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশ না নেওয়ায় পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও কম ছিল।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে মাত্র চারজন বিদেশি এবং স্থানীয় ৩৫টি সংস্থার ৮ হাজার ৮৭৪ জন পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৯৩ জন বিদেশি এবং ১ লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন দেশি পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করেন।

ইসি’র তপশিল অনুযায়ী- আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একইদিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News