১৪ দেশের অংশগ্রহণে ঢাকায় ৩ দিনের আহকাব আন্তর্জাতিক এক্সপো ৮ জানুয়ারি

Date: 2026-01-07
news-banner

বাংলাদেশের প্রাণিস্বাস্থ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে তিন দিনব্যাপী ‘৬ষ্ঠ আহকাব আন্তর্জাতিক এক্সপো–২০২৬’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ‘সুস্থ প্রাণী, সমৃদ্ধ জাতি’ স্লোগানে আগামী ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি রাজধানীর পূর্বাচল এক্সপ্রেস হাইওয়ে সংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী আয়োজন করছে অ্যানিম্যাল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আহকাব)। এবারের এক্সপোতে বিশ্বের ১৪টি দেশ অংশ নেবে। 

প্রাণিস্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি বিনিময় এবং বিনিয়োগ সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ মেলায় থাকছে ১২৮টি বিদেশি স্টল এবং ৬৫ জন আন্তর্জাতিক প্রদর্শক। পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান তাদের আধুনিক পণ্য, প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শন করবে।

এক্সপো আয়োজনের বিস্তারিত তথ্য জানাতে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আহকাব। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আহকাবের সভাপতি সায়েম উল হক, সেক্রেটারি মো. আনোয়ার হোসেন, সহসভাপতি ডা. এসএমএফ আব্দুস সবুর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ সরোয়ার জাহান, ট্রেজারার ডা. মো. মোজাম্মেল হক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ রাশেদুল জাকির, নির্বাহী সদস্য মো. মোসলেহ উদ্দীন, মোহাম্মদ তারিক, তারেক মাহমুদ খান, মো. তাসলিম খান, খন্দকার রাকিবুল ইসলাম, কনসালটেন্ট কানিজ ফাতেমা ও ফিশারিজ অ্যান্ড লাইভস্টক জার্নালিস্টস ফোরামের (এফএলজেএফ) সভাপতি মুন্না রায়হান।  

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ৮ জানুয়ারি বিকেল ৩টায় এক্সপোর উদ্বোধন করা হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার প্রধান অতিথি হিসেবে এক্সপোর উদ্বোধন করবেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডা. মো. আবু সুফিয়ান।

ট্রেজারার ডা. মোজাম্মেল হোসেন খানের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ রাশেদুল জাকির। মোহাম্মদ রাশেদুল জাকির বলেন, এবারের এক্সপোতে চীন, ভারত, মিশর, রোমানিয়া, তুরস্ক, ভিয়েতনামসহ ১৪টি দেশের ১২৮টি বিদেশি স্টল ও ৬৫ জন আন্তর্জাতিক প্রদর্শক অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রাণিস্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতের কোম্পানিগুলোও তাদের পণ্য ও উদ্ভাবন তুলে ধরবে।

তিনি বলেন, সুস্থ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং গ্রামীণ জীবিকাকে শক্তিশালী করে। দারিদ্র্য হ্রাস ও জাতীয় উন্নয়নে এই খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সুস্থ পোষা প্রাণী মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং অর্থনীতিতেও অবদান রাখে।

ডা. মোহাম্মদ রাশেদুল জাকির বলেন, শক্তিশালী ভেটেরিনারি সেবা ও কার্যকর বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। এতে মানুষ ও পরিবেশ উভয়ই সুরক্ষিত থাকে। এই এক্সপো খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার, বাণিজ্য ও রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রদর্শনীতে আধুনিক ভ্যাকসিন, ওষুধ, ফিড সলিউশন, ডায়াগনস্টিকস ও নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শিত হবে। পাশাপাশি প্রাণিস্বাস্থ্য, টেকসই উন্নয়ন ও বৈশ্বিক বাণিজ্য বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে সেমিনার ও জ্ঞানভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এই এক্সপো কৃষক, ভেটেরিনারিয়ান, অ্যাগ্রিবিজনেস নেতা ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সংযোগ তৈরির একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। নীতিনির্ধারক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির সুযোগও সৃষ্টি হবে।

আহকাবের সভাপতি সায়েম উল হক বলেন, ২০০৩ সালে ১৮টি সংগঠন নিয়ে আহকাবের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সংগঠনটির তালিকাভুক্ত সদস্য প্রায় ৮০০ এবং সক্রিয় সদস্য রয়েছেন ৪০০ এর বেশি।

তিনি বলেন, এনবিআর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আহকাব নিয়মিত কাজ করে। খাতভিত্তিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কোড অব কনডাক্ট প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে নিয়মিত আন্তর্জাতিক এক্সপো আয়োজন করছে আহকাব, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অংশ নিচ্ছে।

প্রান্তিক খামারিদের সুবিধার বিষয়ে সায়েম উল হক বলেন, এবারের এক্সপোতে ২২০টি কোম্পানি অংশ নেবে। একজন প্রান্তিক খামারি সাধারণত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কী ধরনের প্রযুক্তি বা ভ্যাকসিন আসছে, তা জানার সুযোগ পান না। এই এক্সপোতে এসে তারা জানতে পারবেন বিশ্ব কোন দিকে এগোচ্ছে, নতুন কী উদ্ভাবন হচ্ছে এবং কীভাবে উৎপাদন আরও নিরাপদ এবং লাভজনক করা যায়। পাশাপাশি নেটওয়ার্কিংয়েরও বড় সুযোগ তৈরি হবে।

আহকাবের সাবেক সেক্রেটারি আফতাব আলম বলেন, এফবিসিসিআইয়ের সদস্যভুক্ত সংগঠনগুলোর মূল কাজ হলো মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো একত্রিত করে সরকারের কাছে তুলে ধরা এবং সমাধানে সহযোগিতা করা। সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে খাতভিত্তিক নীতিগত সমস্যাগুলো সমাধান করাই সংগঠনগুলোর লক্ষ্য।

আহকাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতি দুই বছর পরপর আয়োজিত এ মেলা দেশের প্রাণিস্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো এখানে তাদের পণ্যের প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিনিময়ের সুযোগ পাচ্ছে।

ট্রেজারার ডা. মো. মোজাম্মেল হক বলেন, প্রাণিস্বাস্থ্য ও জাতীয় উন্নয়নের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সুস্থ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, গ্রামীণ অর্থনীতি ও জীবিকাকে শক্তিশালী করে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি সুস্থ পোষা প্রাণি মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও অবদান রাখে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ‘৬ষ্ঠ আহকাব আন্তর্জাতিক এক্সপো–২০২৬’ বাংলাদেশের প্রাণিস্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে। বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও টেকসই প্রবৃদ্ধির নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News