চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর মধ্যে ছোট শিশু মোর্শেদ (১৪ মাস) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সোমবার বিকেল আনুমানিক ৩টার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, মরদেহটি দাদী পারভীন আকতারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। মরদেহ খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি লেমুয়া ইউনিয়নের নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, শিশুটি জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী ছিল। তাছাড়াও সে চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিল।
দাদী পারভীন আকতার জানান, শিশুটির মরদেহ তাদের বাড়ি খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে শিশুটিকে দাফন করা হবে।
এর আগে ৩০ ডিসেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মোর্শেদকে প্রথমে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
অপরদিকে, মোর্শেদের চার বছর বয়সী বোন আয়েশাও বর্তমানে ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি আছে। সে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামের পিএবি সড়কের পাশ থেকে অভিভাবকহীন অবস্থায় দুই শিশুকে উদ্ধার করেন স্থানীয় এক সিএনজি চালক। পরে মানবিক বিবেচনায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন শিশু দুটির দায়িত্ব গ্রহণ করে।
এ ঘটনায় ৩১ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বাঁশখালী উপজেলা থেকে শিশু দুটির বাবা খোরশেদ আলম আনোয়ারা থানায় খোঁজ নিতে আসলে আদালতের নির্দেশে তাকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ বাদী হয়ে অরক্ষিত অবস্থায় পরিত্যাগ ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করে। শিশুদুটির বাবা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে।
শিশু দুটির বাবা পারিবারিক কলহের কথা জানিয়েছেন। তাদের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার মহামনি এলাকায় বলে জানা গেছে।