ব্যবসায়ী-পুলিশ সংঘর্ষের পর হ্যান্ডসেট ব্লক ৩ মাস স্থগিত

Date: 2026-01-05
news-banner

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। ব্যবসায়ীরা গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে তারা। বিকেল ৪টা পর্যন্ত থেমে থেমে চলে সংঘর্ষ। এ সময় ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে তীব্র যানজট ও চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়। 

গত শনিবার ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার ব্যবস্থা (এনইআইআর) চালুর প্রতিবাদ, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীতে পরিবারসহ অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)। 

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। সড়কে বসে তারা স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় শাহবাগ থেকে ফার্মগেট সড়ক ও পান্থপথ এলাকায় গাড়ি চলাচল বন্ধ যায়। মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে জানিয়ে পুলিশ ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি থেকে সরে যেতে বলে। কিন্তু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা সরতে নারাজ। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ব্যবসায়ীদের লাঠিপেটা শুরু করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। 

দুপুর ১২টার দিকে আবার সড়কে এসে বসে পড়েন তারা। সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ লাঠিপেটা, জলকামান ব্যবহার, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

বিক্ষোভকারীরা সার্ক ফোয়ারা থেকে হাতিরপুলে যাওয়ার সড়কে অবস্থান নিয়ে পুলিশের দিকে ইট ছোড়েন। সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্যসহ কয়েক ব্যবসায়ী আহত হন। কয়েক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও কাজ করেন। দুপুর দেড়টার দিকে ব্যবসায়ীরা ফের সংগঠিত হয়ে হাতিরপুলের মোতালিব প্লাজার দিক থেকে মিছিল নিয়ে সার্ক ফোয়ারা মোড়ের দিকে আসছিলেন। পুলিশ তাদের বাধা দিলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত থেমে থেমে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। 

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান সমকালকে বলেন, রাস্তা অবরোধ করে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে আমরা তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও জলকামান নিক্ষেপ করা হয়। বিকেল ৪টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, আগামী তিন মাস অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্লক করা হবে না। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি সমকালকে এই তথ্য জানিয়েছেন। 

বিশেষ সহকারী গতকাল সকালে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিটিআরসি ভবন পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এনইআইআর কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিম কার্ড ও অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনকেন্দ্রিক অপরাধ, আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতি প্রতিরোধে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। 

তৈয়্যব বলেন, মোবাইল আমদানিতে শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর পরদিনই বিটিআরসির মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে হামলা হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য।  

বিটিআরসি গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরোনো হ্যান্ডসেট আমদানির দাবি সম্পর্কে জানায়, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। এনইআইআর চালুর পর কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা যেমন– একই গ্রাহকের অধীনে একাধিক পুরোনো আইএমইআই প্রদর্শন, নিবন্ধনের সময় ওটিপি বিলম্ব এবং তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ-সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া গেলেও কমিশন জানিয়েছে, এগুলো ধাপে ধাপে সমাধান করা হচ্ছে এবং গ্রাহকের তথ্য সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে।

 ফিশিং ওয়েবসাইট 

এনইআইআরের নামে ফিশিং ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এসব ওয়েবসাইটের ইউআরএলের এনইআরআইর সাইটের সঙ্গে মিল রয়েছে। এ ধরনের একাধিক ওয়েবসাইট ঘুরে দেখা যায়– নিবন্ধন, লগইনসহ নানা অপশন রয়েছে। একটি ওয়েবসাইটের স্ট্যাটাস নাউ অপশনে এলোমেলোভাবে ১৫ সংখ্যা বসানোর পর ক্লিক করলে বিটিআরসির অফিসিয়াল পেজে নিয়ে যায়। কিন্তু রেজিস্টার বা লগইন বাটনে ক্লিক করলে জুয়ার সাইটে চলে যায়। 

এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদুল হক বারী বলেন, এনইআইআর সাইটের আদলে কিছু ফিশিং সাইটের তথ্য পাওয়া গেছে, এগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। 

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News