বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বাঁধা এক নারী। তার পরনে শীতের পোশাক। কনকনে শীতের মধ্যে ওই নারীর গায়ে পানি ঢালছেন দু’জন। তাদের মুখে হাসি। একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও করছিলেন। পাশে থেকে কয়েকজন পুরো ঘটনাটি দেখছেন। শনিবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে নারী নিপীড়নের এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। আজ রোববার পর্যন্ত ওই নারীর নাম–পরিচয় পুলিশ শনাক্ত করতে পারেনি। তবে ঘটনাস্থল শনাক্ত করা হয়েছে। এটি হলো নর্দার মারকাযুত তা'লীম আল- ইসলামী মাদ্রাসায়।
শুক্রবার চুরির অভিযোগ তুলে ওই নারীকে খুঁটিতে বেঁধে পানি ঢেলে নির্যাতন করা হয়। বাড্ডার নর্দা এলাকার ওই স্থানীয় মাদ্রাসা থেকে চুরির চেষ্টা করার সময় ওই নারীকে নির্যাতন করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে আজ সকালে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার আলী আহমেদ মাসুদ সমকালকে বলেন, আটক ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট তাদের সাজা দিয়েছেন। এখনো ওই নারীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আলী আহমেদ মাসুদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ঘটনার সময় ওই নারী তিন ধরনের কথা বলছিলেন। কখনো বলছিলেন তিনি ভবঘুরে। আবার কখনও বলছিলেন ছেলেকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর জন্য তিনি সেখানে যান। এছাড়া এর বাইরের আরও একটি কারণ উল্লেখ করেন। ওই নারীকে খুঁজে পাওয়া গেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
গুলশানের সহকারী কমিশনার আলী আহমেদ মাসুদ বলেন, গ্রেপ্তাররা পুলিশকে জানিয়েছেন, দুই দিন আগে নর্দা এলাকার একটি স্থানীয় মাদ্রাসা থেকে চুরির চেষ্টা করার সময় ওই নারীকে তারা আটক করেন।
আটক ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে আহমেদ মাসুদ বলেন, ওই সময় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ কক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছিল। তাদের পাঞ্জাবিগুলো হ্যাঙ্গারে ঝুলানো ছিল। ওই নারী মাদ্রাসার দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় গিয়ে পাঞ্জাবির পকেট তল্লাশি করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। কিছু শিক্ষার্থী তাকে দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এসে তাকে আটক করে।
দল বেঁধে ওই নারীর ‘শাস্তি’ দেখতে থাকা কেউ একজন ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পুলিশ ভিডিও দেখে পাঁচজনকে শনাক্ত করেছে। তবে ওই নারীকে এলাকার কেউ চিনতে পারেননি। ওই নারী ওই এলাকার নন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত ওই নারীকে শনাক্ত করতে পারেনি। মাদ্রাসা ভবনের যে কক্ষ থেকে ওই নারীকে আটক করা হয়েছিল সেটি চতুর্থ তলায়। ওই নারী কীভাবে সেখানে ঢুকতে পারলেন, সেই প্রশ্নেরও উত্তর মিলছে না।