স্বল্প খরচে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার তাগিদ

Date: 2026-01-04
news-banner

সেবার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বাড়ানো জরুরি। স্বল্প খরচে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও হাসপাতালে হেলথ অ্যাকাউন্টিংয়ের কার্যকর প্রয়োগ অপরিহার্য। স্বাস্থ্য খাতকে সাশ্রয়ী, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি রোগীদের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। 

রোববার রাজধানীর বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে ‘ডিজিটাল যুগে উদ্ভাবন, সততা ও জবাবদিহিতা: করপোরেট যোগাযোগ ও হিসাবরক্ষণ’ শীর্ষক এ ওয়েবিনার হয়। এশিয়া প্যাসিফিক ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিং অ্যাসোসিয়েশন (এপিএমএএ) ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) যৌথভাবে এ আয়োজন করে। 

ওয়েবিনারে স্বাস্থ্যখাতে হেলথ অ্যাকাউন্টিং ও হেলথ ইকোনোমিক্সের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এতে বিশ্বের ৫০টি দেশ এবং দেশের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিসহ দুই শতাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবী অংশ নেন।

ওয়েবিনারের প্যানেল এক্সপার্ট হিসেবে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম ‘অ্যাকাউন্টিং ফর হেলথ’ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে স্বল্প ব্যয়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও হাসপাতালে হেলথ অ্যাকাউন্টিং কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, রাজস্ব ও ব্যয় পরিমাপ, বাজেট প্রণয়ন, আর্থিক প্রতিবেদন, অবচয় হিসাব এবং ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হিসাবরক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিং প্রয়োগ করা গেলে চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে দারিদ্র্যে নেমে যাওয়া লাখো মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিটি স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে বাজেট বাড়ানোর যে সুপারিশ করছে, সেটি বাস্তবায়ন করা জরুরি। এটি করলে চিকিৎসা খরচ কমে আসবে।

অন্য বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবাখাতে অর্থ ব্যয়কে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ম্যানেজমেন্ট হেলথ অ্যাকাউন্টিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সঠিক বাজেট প্রণয়ন, বাজেটের সদ্ব্যবহার, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতের মাধ্যমে এই খাতকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য দেন এপিএমএএর বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ার ইমেরিটাস অধ্যাপক সুসুমু ইনো, এপিএমএএ ডিরেক্টর এবং বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারহানা বেগম, কো-চেয়ার হিসেবে বিএমইউর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ এবং বিএমইউর পরিচালক খন্দকার শফিকুল হাসান রতন।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News