নিজের প্রতি যাদের আত্মবিশ্বাস তেমন নেই বললেই চলে, তাদের বলছি, চলতি পথে আপনি যদি হঠাৎ থেমে যান, তাহলে কেমন হবে, ভাবুন তো একবার? আপনার ক্যাম্পাসে কিংবা বাড়ির পাশের সবচেয়ে অলস ছেলেটা তার ছটফটে ভাবটা কাজে লাগিয়ে নিজেকে কেমন করে সবার সামনে নায়কোচিতভাবে উপস্থাপন করে, দেখলে নিশ্চয়ই গা জ্বলে যায় আপনার! মেয়েদের ক্ষেত্রেও যদি এমনটা হয়, তাও কি মেনে নেওয়া যায়? শুনুন, একটু সচেতন হলে আর নিজেকে সবার সামনে তুলে ধরার মানসিকতাটা নিজের ভেতর তৈরি করতে পারলেই দেখবেন, সব কেমন রূপকথার গল্পের মতো বদলে যাচ্ছে। সেই বাউন্ডুলে কিংবা আপাত অগোছালো আপনার ভেতরও আসছে কেমন পরিবর্তন! সবাই যখন আগ্রহের দৃষ্টি নুইয়ে আপনার চোখে চোখ রাখবে, তখন নিজেকে সার্থক ছাড়া আর কি-ই-বা মনে হবে? ইতিবাচক চিন্তা: আপনি ভাবুক? আকাশ-পাতাল ভাবেন? তবে আপনাকেই বলি, রাজ্যের সব চিন্তা-ভাবনায় ইতিবাচক ভাব নিয়ে আসুন। সঙ্গে বাতিলের খাতায় লিখে রাখুন নেতিবাচক চিন্তা। পর্যাপ্ত বিশ্রাম: সবসময় চান, নিজেকে ভালোভাবে উপস্থাপন করতে? তবে নিজেকে অন্যের সামনে তুলে ধরতে নিজেরও তো একটা প্রস্তুতি দরকার, নাকি? তার জন্য ভাবটা সব সময় ভালো রাখুন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। ব্যক্তিগত স্লোগান: কাজ ফেলে রাখেন? এমনটা করা যাবে না। কোনো কাজ আগামী দিনের জন্য ফেলে রাখবেন না। তা যদি করেন, তাহলে ভর করবে আলসেমি। জানেন তো, আলসেমি এমনই আগুন, যা সব কিছুকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খায়! ‘ডু ইট নাও’–এই স্লোগানটাকে রাজনৈতিক স্লোগান মনে না করে আপনার একান্ত ব্যক্তিগত স্লোগান বানিয়ে নিন এই মুহূর্তে। নিজের সঙ্গে কথা বলা: প্রয়োজনে নিজের কথাটা সব সময় তুলে ধরার চেষ্টা করেন? এটি নিশ্চয়ই ভালো গুণ। এর জন্য প্রথমে পরিবারের কাছে বলুন নিজের কথাটা। তাতেও যদি মনে এতটুকু বিশ্বাস না আসে, তবে নিজের সঙ্গে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকেই বলে যান মনের কথা। পাল্টানোর পথে: সময় পাল্টায়–এ কথাটা মাথায় রেখে নিজেকে পাল্টানোর পথে নেমে পড়ার কথা ভাবছেন? তবে নেমে পড়ুন এখনই। ফলাফল হয়তো রাতারাতি পাবেন না। বিশ্বাস করুন, আজ না হোক কাল পাল্টানো যাবে নিজেকে। তাই না? আপন করুন হাসি: নিজেকে হাসিখুশি দেখতে চান? বলি, নিজেকে ঠিক রাখার জন্য পৃথিবীতে হাসির মতো মহৌষধ আদৌ তৈরি হবে কিনা, বলা দায়! তাই হাসিটাকেও আপন করে নিন। হেসে উড়িয়ে দিন দুঃখ। হেসে জয় করুন পৃথিবী। পরিচ্ছন্নতায় গুরুত্ব: পৃথিবীতে এমন কোনো ধর্মগ্রন্থ নেই, যেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাই বলছিলাম, নিজেকে অন্যের সামনে একটু কেতাদুরস্তভাবে দাঁড় করালে মন্দ কী? নিজের শখে প্রাধান্য: নিজের শখকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করুন? এটাও ভালো গুণ। ওপরের গুণগুলোর সঙ্গে এটিও ঠিকঠাক রেখে নিজেকে তুলে ধরুন অন্যের সামনে। দেখবেন, সবাই কেমন চোখে ঘোর নিয়ে তাকিয়ে থাকবে আপনার দিকে। এগিয়ে যান এভাবে!
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more