ডুমুরিয়ায় শ্রমজীবী মানুষের হাট

Date: 2026-01-03
news-banner

ঘন কুয়াশা ভেদ করে পূর্ব দিগন্তে সূর্যের আভা দেখা দেওয়া মাত্রই পাখির কলরব। এমন সকালে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই একদল মানুষ ভিড় করেছেন খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক ঘেঁষে ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের কালীবাড়ি মোড়ে। সেখানে একদল শ্রমজীবী মানুষ এসেছেন তাদের শ্রম বিক্রি করতে। আর অন্যরা এসেছেন এসব মানুষকে ভাড়া করতে। প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও সোমবার সেখানে শ্রমজীবী মানুষের হাট বসে।

বিভিন্ন এলাকা থেকে কর্মহীন মানুষ হাটে আসেন শ্রম বিক্রি করতে। আরেক শ্রেণির মানুষ আসেন তাদের শ্রম কিনতে। পণ্যের মতো দরকষাকষি শেষে নির্দিষ্ট অর্থে চুক্তিবদ্ধ হন এসব শ্রমজীবী মানুষ। কৃষিকাজের জন্য শ্রমজীবীদের ভাড়া করা হলে তাদের বলা হয় কৃষান বা জোন। আবার কৃষির বাইরে অন্যান্য কাজের জন্য ভাড়া করা হলে তাদের বলা হয় শ্রমিক বা দিনমজুর। সাধারণত, নির্দিষ্ট অর্থে দিনব্যাপী শ্রম দিতে চুক্তিবদ্ধ হন হাটে আসা শ্রমজীবী মানুষ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিশেষ করে শীত মৌসুমে অঞ্চল ভেদে এসব শ্রমজীবীদের নিজ এলাকা বা বাড়িতে তেমন কোনো কাজ থাকে না। তাই তারা বাড়তি আয়ের আশায় প্রতি শুক্র ও সোমবার এ হাটে ছুটে আসেন শ্রম বিক্রির জন্য। ৬৮ বছরের বৃদ্ধ থেকে ১৮ বছর বয়সী তরুণরা হাটে আসেন। ডুমুরিয়ায় এখন আমন ধান কাটা, সবজি বিক্রি, বোরো চাষ, চিংড়ি ঘেরের বেড়িবাঁধ মেরামতের ও ঘের প্রস্তুতির ভরা মৌসুম চলছে। এসব কাজের জন্য শ্রমিকের চাহিদার কারণে এ হাট থেকে শ্রমজীবীদের ভাড়া করা হয়।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, শ্রমজীবী অধিকাংশ অভাবী ও ছিন্নমূল মানুষ। এদের অধিকাংশ এসেছেন, সাতক্ষীরার তালা, শ্যামনগর, আশাশুনি, খুলনার বাটিয়াঘাট, কয়রা, পাইকগাছা ও দাকোপ উপজেলা থেকে। এ ছাড়া খুলনার বাইরের বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে শ্রমজীবী এ হাটে শ্রম বিক্রি করতে এসেছেন। এসব শ্রমজীবীদের কেউ এক সপ্তাহ, কেউ ১৫ দিন, কেউ মাসব্যাপী শ্রম দিতে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন।
হাটে শ্রমজীবী মানুষ ভাড়া করতে আসা স্থানীয়দের ভাষ্য, ডুমুরিয়ায় শ্রমজীবী মানুষের সংকট রয়েছে। এ অঞ্চলে প্রায় ১২ মাসই (বছরব্যাপী) কোনো না কোনো কাজ থাকে। এ কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমজীবী মানুষ ডুমুরিয়ায় এলে তাদের কাজের অভাব হয় না।

খুলনার কয়রা উপজেলার শ্রমিক আমিন আলী শেখ, সারাফাত সরদার, ইমরান মণ্ডল, পাইকগাছার হামিদুর মণ্ডল, আজিজ মল্লিক ও পাইকগাছা উপজেলার পরিমল বিশ্বাসের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে তাদের নিজ এলাকায় তেমন কোনো কাজ থাকে না। তাই প্রতিনিয়ত কাজের সন্ধানে এখানে ছুটে আসেন। শ্রম বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায়, এতে তাদের সংসার চলে। ডুমুরিয়ায় এলে সহজে কাজ পাওয়া যায়।
শ্রমিক আমিন শেখ, করিম মোল্লা ও হাফিজুর রহমান ফকির বলেন, শ্রমের টাকায় সংসার চালানো এবং ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে তাদের ডুমুরিয়া এলাকায় আসা। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন শ্রমের মূল্য বাবদ সাড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। এ ছাড়া নিয়োগকর্তা তাদের তিন বেলা খাবার খাইয়ে থাকেন।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News