রেমিট্যান্সে রেকর্ড, এসেছে ৩২ বিলিয়ন ডলারের বেশি

Date: 2026-01-03
news-banner

আগের সব রেকর্ড ভেঙে ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। প্রথমবারের মতো একক বছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এর আগে কোনো বছরই ৩০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, সদ্যবিদায়ী বছরে প্রবাসীরা মোট ৩২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। ২০২৪ সালে এসেছিল ২ হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫৯৩ কোটি ডলার বা ২২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। 
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত বছরের শেষ পাঁচ মাসে উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের কারণে ২০২৪ সালেও বড় প্রবৃদ্ধি ছিল। অর্থনীতিবিদদের মতে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে রেমিট্যান্সই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ব্যাংকাররা বলছেন, ডলারের অবৈধ বাজার সংকুচিত হয়েছে। ফলে প্রবাসীরা কষ্টার্জিত অর্থ বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠাচ্ছেন। পাশাপাশি ডলারের বিনিময়মূল্য স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা আর ডলার ধরে রাখছেন না। এতে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্সের উচ্চপ্রবাহ বজায় আছে।

দেশের অন্যতম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার সমকালকে বলেন, বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার অনেকটাই বন্ধ হয়েছে। উচ্চ রেমিট্যান্স ডলারের দর স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক উদ্বৃত্ত ডলার কিনে নেওয়ায় এ প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে।

বছরভিত্তিক রেকর্ডের পাশাপাশি একক মাস হিসেবে গেল ডিসেম্বরে তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে রেমিট্যান্স। এ মাসে প্রবাসীরা ৩২৩ কোটি ডলার পাঠান, যা একক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছরের মার্চে রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ ৩৩০ কোটি ডলার এসেছিল। গত নভেম্বর মাসে এসেছিল ২৮৯ কোটি ডলার এবং আগের বছরের ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি ডলার। সাধারণত ঈদের আগের মাসে রেমিট্যান্স বাড়ে। এবার রমজানের আগেই রেকর্ডপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে, যার পেছনে জাতীয় নির্বাচনও একটি কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, উচ্চ রেমিট্যান্স আমদানি সক্ষমতা বাড়ালেও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। অর্থ যেন ভোগে না গিয়ে সঞ্চয় ও বিনিয়োগে আসে, সে বিষয়ে নীতিগত উদ্যোগ জরুরি। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যেসব প্রবাসী রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, তাদের বেশির ভাগই অদক্ষ কর্মী। দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারলে রেমিট্যান্স তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারত। এ ক্ষেত্রে সরকারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

এদিকে উচ্চ রেমিট্যান্সপ্রবাহের কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে গত বছর বড় অঙ্কের ডলার বিক্রি করেছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত বেড়ে ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গত বছর বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মোট ৩১৩ কোটি ৫৫ লাখ ডলার কেনা হয়। সব মিলিয়ে ৩০ ডিসেম্বর বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার দাঁড়ায়। আর বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ উঠেছে ২৮ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানের এ রিজার্ভ গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। 
অর্থবছর বিবেচনায় চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে প্রবাসীরা ১ হাজার ৬২৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৩৭৮ কোটি ডলার। সে হিসাবে ছয় মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা ২ হাজার ১৯২ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন। ২০২২ সালে ২ হাজার ১২৮ কোটি, ২০২১ সালে ২ হাজার ২০৭ কোটি এবং ২০২০ সালে ২ হাজার ১৭৫ কোটি ডলার আসে। করোনা মহামারির সময় বিশ্বব্যাপী লকডাউনের কারণে রেমিট্যান্স বাড়লেও তার আগে ২০১৯ সালে এ অঙ্ক ছিল মাত্র ১ হাজার ৮৩৫ কোটি ডলার।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News