অপরিকল্পিত হাটবাজার, ইজিবাইক স্ট্যান্ডে দুর্ভোগের শহর দেওয়ানগঞ্জ

Date: 2026-01-03
news-banner

অপরিকল্পিত হাটবাজার, যত্রতত্র ইজিবাইক স্ট্যান্ড, শহরায়নে অদূরদর্শিতা, বাইপাস সড়ক নির্মাণের অভাবে দুর্ভোগের শহরে পরিণত হচ্ছে দেওয়ানগঞ্জ। প্রতিনিয়ত বাড়ছে যানজট। এক সময়ের ছোট্ট শান্তির শহর ক্রমেই হয়ে উঠছে অস্বস্তিকর। দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ চায় শহরবাসী।
এক সময়ের খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে গড়ে ওঠা শহর দেওয়ানগঞ্জ। দূর-দূরান্তের ক্রেতা-বিক্রেতারা এই শহরে এসে স্বস্তিতে কেনাবেচা করতে পারতেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সবই যেন স্মৃতি হতে চলছে। দুর্ভোগের শহরে পরিণত হচ্ছে দেওয়ানগঞ্জ।

যত্রতত্র ইজিবাইক স্ট্যান্ড
দেওয়ানগঞ্জ সরু গলির ছোট্ট শহর। এই শহরের মাঝখানে পাঁচটি ইজিবাইক স্ট্যান্ড রয়েছে। তার মধ্যে তারাটিয়া, কাঠারবিল, ঝালরচর, বাহাদুরাবাদ, পোল্যাকান্দি থেকে আসা ইজিবাইক দাঁড়ায় জামে মসজিদের সামনে। বকশীগঞ্জ থেকে আসা ইজিবাইক দাঁড়ায় মাংস বাজারের দক্ষিণ পাশে। বেলতলী, সুগারবিল ও ইসলামপুর থেকে আসা ইজিবাইক দাঁড়ায় জিরো পয়েন্টের দক্ষিণ পাশে। ভেলামারী, বড়খাল, টাকিমারী থেকে আসা ইজিবাইক দাঁড়ায় জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশে এবং মণ্ডলবাজার সড়কের ইজিবাইক দাঁড়ায় তারও পশ্চিম পাশে। ইজিবাইকগুলো সরু সড়কের পাঁচটি স্থানে দুপাশে দাঁড়ানোর ফলে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিগত সময়ে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও প্রতিকার মেলেনি। সপ্তাহের রবি ও বুধবার হাটের দিন এই শহরে যানজটে ভোগান্তির সীমা থাকে না। দুই পাশে ইজিবাইক দাঁড়ানোর ফলে সড়কের প্রশস্ততা সংকীর্ণ হয়ে সৃষ্টি হয় যানজট। দুর্ভোগ পোহাতে হয় শহরবাসীকে।
শহরে আসা পাথরেরচরের সাইফুল ইসলাম জানান, দেওয়ানগঞ্জ শহর ইজিবাইকে সয়লাব। রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন দিক থেকে আসা ইজিবাইক দাঁড় করিয়ে রাখে। সে সময় অন্য যানবাহন ও পথচারীদের যাতায়াতে কষ্টের সীমা থাকে না। হাঁটের দিন শহরে চলাচল করাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। ইজিবাইকগুলোর অস্থায়ী স্ট্যান্ড বা বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত। না হলে হাটের দিন বাজারে চলাচল করা আরও কষ্টকর হবে। অন্যান্য দিনেও বাড়তে থাকবে ভোগান্তি।

শহরায়নে অদূরদর্শিতা
দেওয়ানগঞ্জ শহর নির্মাণে সুদূরপ্রসারী কোনো পরিকল্পনা ছিল না বলে মনে করছেন অনেকে। সড়কের দুই পাশের দোকানপাট স্থাপনের সময় ভবিষ্যৎ সুবিধা-অসুবিধার কথা বিবেচনা করা হয়নি। ফলে দুই পাশের দোকান ও মার্কেটগুলো নির্মাণ করা হয়েছে সরু গলি রেখে। স্থানীয়রা জানান, এখনও শহরের উপকণ্ঠে যেসব ভবন ও দোকানপাট নির্মাণ করা হচ্ছে, তাতেও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেই। রাস্তার সীমানা ঘেঁষে মাঝখানে সরু গলি রেখে ভবন ও দোকানপাট নির্মাণ করা হচ্ছে।

বাইপাস সড়ক নির্মাণ
দেওয়ানগঞ্জ শহর অতিক্রম করে উত্তর-দক্ষিণে যানবাহন চলাচলের জন্য কোনো বাইপাস সড়ক নেই। ফলে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানের মতো ভারী যানবাহন শহরের সরু গলির ভেতর দিয়ে চলাচল করে থাকে। এতে যানজট সৃষ্টি হয়ে ভোগান্তির শিকার হন ছোট ও মাঝারি যানবাহনের চালক ও পথচারীরা। বটতলা স্ট্যান্ড থেকে কলেজ হয়ে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে শহরের ভেতর যানবাহন চলাচলের চাপ কমবে। কমে যাবে যানজট। না হলে শহরের ভেতরের দুর্ভোগ দিন দিন বেড়ে যাবে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আব্দুর রহিমের ভাষ্য, দেওয়ানগঞ্জ শহরের উত্তর-দক্ষিণে যানবাহন চলাচল সহজ করার জন্য বাইপাস সড়ক নির্মাণ জরুরি। তাতে শহরের ভেতরে যানজট কমবে। ভারী যানবাহন নির্বিঘ্নে শহর অতিক্রম করতে পারবে। শহরের ওপর যানবাহনের চাপ কমবে। না হলে দিন দিন শহরের ভেতরের অস্বস্তিকর পরিবেশ বেড়ে যাবে।

অপরিকল্পিত হাট-বাজার
কাঁচামাল, পান-সুপারি, চাল, মাংসের বাজার পরিকল্পিতভাবে স্থাপিত হলেও মাছ ও গরু-ছাগলের হাট বসানো হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। করোনা মহামারির সময়ে মাছ বাজার কেন্দ্রীয় গোরস্তান সড়কে বসানো হয়েছে। একে তো সরু সড়ক, তার ওপর দুই পাশে অনেকটা জায়গাজুড়ে বসে এই মাছ বাজার। এই বাজার পথচারী ও যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। শহরের জামে মসজিদের পাশে মাংসের বাজারের সঙ্গে মাছ বাজার বসানোর জন্য শেড নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এখনও মাছ বাজারটি স্থানান্তর করা হয়নি। মাছ ও মাংসের বাজার পৃথক স্থানে হওয়ায় ক্রেতাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে শহরের শৃঙ্খলা।
দেওয়ানগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল ইসলামের ভাষ্য, শহরের ভেতর ইজিবাইক দাঁড়ানোর নিয়ম মানার বিষয়ে সতর্ক করতে মাইকিং করা হয়েছে। ইজিবাইকের লাইসেন্স করতে বাধ্যবাধকতা জারি করা হয়েছে। তাহলে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। হাট-বাজার স্থানান্তর, বাইপাস সড়ক বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News