উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতিবাদে ইরানে চলমান বিক্ষোভে প্রথম কেউ নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম। ‘দাঙ্গা সৃষ্টিকারী’দের বিরুদ্ধে এই হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
লোরেস্তান প্রদেশের উপগভর্নর সাঈদ পুরআলির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিহত ব্যক্তি কৌহদাশত শহরের বাসিজ বাহিনীর সদস্য ছিলেন। স্থানীয় সময় বুধবার রাতে দাঙ্গা সৃষ্টিকারীদের হাতে তিনি নিহত হন। ঘটনার সময় তিনি শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন।
রাজধানী তেহরানে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভটি শুরু হয় গত রোববার। ধর্মঘট ডাকেন দোকানিরা। এরপর তা বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার অন্তত ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে যোগ দেন। বুধবার ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ বৈধ। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে কঠোরভাবে দমন করা হবে।
বাসিজ হলো ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত একটি স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনী। যা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আদর্শিক শক্তির অংশ। সাঈদ পুরআলি জানান, কৌহদাশতে বিক্ষোভ চলাকালে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় পুলিশের ১৩ সদস্য ও বাসিজ বাহিনীর বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম বুধবার সন্ধ্যায় জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপভিত্তিক ইসলামি প্রজাতন্ত্রবিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা বলে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদেরকে বিক্ষোভ সহিংসতায় পরিণত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
গত রোববার তেহরানের খোলাবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানের রিয়ালের মূল্য রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্তে বুধবার ব্যাংক ছুটি ঘোষণা করে। তবে তারা এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিক্ষোভের কোনো আনুষ্ঠানিক যোগসূত্র দেখায়নি।