রপ্তানি উন্নয়নে ৬ হাজার কোটি টাকা সহায়তা ঘোষণা ভারতের

Date: 2026-01-03
news-banner

মার্কিন পাল্টা শুল্কের প্রভাব থেকে রপ্তানি খাতের সুরক্ষায় গতকাল বুধবার ৪ হাজার ৫৩১ কোটি রুপির সহায়তা ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। মুদ্রা বিনিময় হারে এখন ভারতীয় ১ রুপিতে বাংলাদেশি ১ টাকা ৩৬ পয়সা পাওয়া যায়। এ হিসাবে ভারতের ঘোষিত পরিমাণ দাঁড়ায় ছয় হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। রপ্তানি বাজার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক মেলা এবং প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মতো কার্যক্রমে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা মনে করছেন, ভারতের এ ধরনের সুবিধায় বাংলাদেশ রপ্তানি বাণিজ্য এবং অভ্যন্তরীণ বাজার– দুই দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তৈরি পোশাক খাতের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গতকাল সমকালকে বলেন, ভারত আগে থেকেই রপ্তানি আয় বাড়াতে  নানা ধরনের প্রণোদনা দিয়ে আসছে। তাদের শিল্প ঋণে সুদহার মাত্র ৬ শতাংশ। শিল্পকারখানা স্থাপনে জমি ক্রয়, সরকারি সেবা, শ্রমিক মজুরিসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা রয়েছে সেখানে। সেই সুযোগেই ভারতীয় সুতা কাপড়ের বৈধ ও অবৈধ বাজারে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতামূলক দরে টিকতে না পেরে স্পিনিং মিলগুলো একে একে বন্ধ হচ্ছে। এখন আরও রপ্তানি সহায়তায় বাংলাদেশের সুতা বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্প আরও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে।
তিনি বলেন, প্রতিযোগী দেশ যখন এ ধরনের কৌশল নিচ্ছে, তখন বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের দোহাই দিয়ে সব ধরনের প্রণোদনা বন্ধ করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, নীতিনির্ধারকদের কাছে তাঁর প্রশ্ন, ভারত তো অনেক আগেই স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বেরিয়ে এসেছে। এখন তারা কীভাবে এসব প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, বাস্তবতা বুঝে বাংলাদেশকেও কৌশল নিতে হবে। না হলে রপ্তানি খাতের সামনে বড় সংকট অপেক্ষা করছে।

ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর ১২ নভেম্বর একটি স্কিম ঘোষণা করে ভারত সরকার। এক্সপোর্ট প্রমোশন মিশনের (ইপিএম) অংশ হিসেবে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের সহায়তায় সরকারি তহবিল গঠন করা হয়। গতকাল দেশটির শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায়। এতে বলা হয়, স্কিমের লক্ষ্য হচ্ছে– ভারতীয় রপ্তানিকারক, বিশেষ করে অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের (এমএসএমই) রপ্তানিকারক উদ্যোক্তা এবং অগ্রাধিকারভুক্ত খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ শক্তিশালী করা। বাজার সুবিধা সহায়তার অধীনে আমদানি-রপ্তানিকারক সম্মেলন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ এবং অগ্রাধিকারভুক্ত ও উদীয়মান রপ্তানি বাজারে বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর মতো কার্যক্রমে প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া। পণ্য ও সেবা রপ্তানি  আয়  ৮৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে এই স্কিম নেওয়া হয়েছে। গত বছর ভারতের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮২৫ বিলিয়ন ডলার।

Leave Your Comments

Trending News