বাল্যবিয়েতে এখনও এশিয়ায় শীর্ষে

Date: 2025-12-31
news-banner

সমাজে নারীর অবস্থানের যে উন্নতি হয়নি, তা নয়। নারীরা এখন সব ধরনের কাজেই অংশ নিচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র নারীরা এখনও পিতৃতন্ত্রের ফাঁদ থেকে বের হতে পারেননি। জন্ম, বিয়ে, বহু সন্তানের মা হওয়া, অল্প বয়সে রোগে, রক্তস্বল্পতায় ভোগে মৃত্যু– এটিই মোটামুটি তাদের নিয়তি। পাশাপাশি বেড়েছে জনপরিসরে নারীর চলাচলের অনিরাপত্তা। নারী শিক্ষার্থীর ঝরে পড়া ও বাল্যবিয়ে বন্ধ না হওয়ার একটা বড় কারণ কন্যাশিশুর নিরাপত্তাহীনতা। নারীর ওপর ধর্ষণ, অপহরণ বা অপবাদসহ অন্যান্য শারীরিক নির্যাতন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে বাল্যবিয়ের অভিশাপ থেকে বের হওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এসব পরিস্থিতি মেয়েশিশুর বাল্যবিয়ের হার আশঙ্কাজনক বাড়িয়ে দেয়।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বাল্যবিয়ে হয় এমন দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে। গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ইউনিসেফ, ইউএনউইমেন এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের একটি যৌথ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘গার্লস গোলস: হোয়াট হ্যাজ চেঞ্জড ফর গার্লস? অ্যাডলসেন্ট গার্লস রাইটস ওভার থার্টি ইয়ার্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীর মধ্যে ৫১ দশমিক ৪ শতাংশেরই বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর হওয়ার আগে।

দেশের হাওর ও চরাঞ্চলের মতো অনগ্রসর এলাকায় বাল্যবিয়ের প্রবণতা বেশি। বাল্যবিয়ে নিরোধে সরকারের করা জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতি ধীর। 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নাহার বলেন, ‘বাল্যবিয়ে আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত হয়ে গেছে, কেবল আইন করে এ থেকে বের হওয়া মুশকিল। কারণ, এটির একদিকে আছে দারিদ্র্য, অন্যদিকে কাঠামোগত বৈষম্য। এলাকাভেদে, শ্রেণিভেদে এই হারের পার্থক্য হয়ে থাকে। যেমন–অপেক্ষাকৃত ধনী, শিক্ষিত পরিবারে বাল্যবিয়ে কম হয়; আবার দরিদ্র ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাল্যবিয়ের হার বেশি। কারণ সেখানে মেয়েকে পরিবারের বোঝা মনে করা হয়। সেই সঙ্গে নিরাপত্তার অভাবেও মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে হয়ে যায়। হাওরাঞ্চলে মেয়েরা বছরের ছয় মাস ঘরে বসে থাকে। তারা গার্মেন্টসে বা বাসাবাড়ির কাজেও ঢাকায় আসে না। ফলে বসিয়ে বসিয়ে মেয়েকে কে খাওয়াবে! মেয়ের বয়স যত বেশি হবে তত বেশি যৌতুক দিতে হবে। তাই তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে ঘাড়ের বোঝা নামান মা-বাবা।’

সাতক্ষীরা, বরিশাল অঞ্চলে ভিন্নচিত্র। এখানে মেয়েশিশুর শিক্ষার হার বেশি হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেয়েদের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়, মুখে দাগ পড়ে যায়। ফলে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে চান মা-বাবা।
একটি দেশের কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যত সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন নির্দেশ করে। মেয়ে শিশুদের শিক্ষা অবৈতনিক করে দেওয়ার পর দেশে মেয়েদের শিক্ষার হার এমনকি উচ্চশিক্ষার হারও বেড়েছে। যখন মেয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় থাকে, তখন তাদের বাল্যবিয়ে কম হয়। বাংলাদেশে এখনও অনেক কন্যাশিশু স্কুলে যায় না। এটা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে আমাদের সমাজে নেতিবাচক প্রভাব রাখে। 

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News