চন্দনাইশে অর্ধশত কোটি টাকার শিম

Date: 2025-12-31
news-banner

ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় চন্দনাইশ উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে শিমের চাষ। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫৫০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে; যা গত মৌসুমে ছিল ৪২০ হেক্টর। অর্থাৎ চলতি মৌসুমে প্রায় ১৩০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ বেড়েছে; যার মূল্য ১২ কোটি টাকা। এবার উপজেলায় প্রায় ৫২ কোটি টাকার শিম উৎপাদন হবে।  
উপজেলার ২ পৌরসভা ও ৭ ইউনিয়নের মধ্যে দোহাজারী পৌরসভা, ধোপাছড়ি ও হাশিমপুর ইউনিয়নে শিমের চাষ সবচেয়ে বেশি হয়। এর মধ্যে দোহাজারী পৌরসভায় প্রায় ১৭০ হেক্টর, ধোপাছড়ি ইউনিয়নে ১৬০ হেক্টর এবং হাশিমপুর ইউনিয়নে ৬০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। বর্তমানে এসব এলাকার বিস্তীর্ণ ক্ষেতে শিমের ফলন পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কৃষকরা পরিপক্ব শিম বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। গত ১৫ দিন ধরে দোহাজারী পাইকারি বাজার হয়ে চট্টগ্রাম নগরীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় শিম সরবরাহ করা হচ্ছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি দেশি শিম ৫০-৬০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চাষিরা জানান, এক কানি বা ২০ গন্ডা জমি থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার শিম বিক্রি করা যায়। সে হিসাবে প্রতি হেক্টরে ৯-১০ লাখ টাকার শিম পাওয়া যায়। চন্দনাইশে ৫৫০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৫২ কোটি টাকার শিম উৎপাদিত হবে।

চাষি মো. হাসান ও আবু বক্কর বলেন, ‘শঙ্খচরের চরাঞ্চল শীতকালীন সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানে শিম ছাড়াও বেগুন, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটোসহ নানা ধরনের সবজি উৎপাদিত হয়। উচ্চশিক্ষিত তরুণরা যদি চাকরির পেছনে না ছুটে বিজ্ঞানসম্মত কৃষিকাজে মনোযোগ দেন, তাহলে কৃষিই হতে পারে সফলতার অন্যতম পথ।’ একই এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ২ কানি (প্রায় ৮০ শতক) জমিতে শিম চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে পরিপক্ব শিম পাইকারি বাজারে বিক্রি করছেন ৬০ টাকা কেজি দরে। ভালো দাম পাওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট।
ধোপাছড়ি ইউনিয়নের চিরিংঘাটা এলাকার কৃষকরা জানান, নব্বইয়ের দশক থেকেই এলাকায় ব্যাপকভাবে শিম চাষ শুরু হয়। শিম চাষ অসংখ্য পরিবারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা এনেছে। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাস থেকে শুরু করে চৈত্র পর্যন্ত শিম বিক্রি করা যায়। শিম বিক্রির অর্থ দিয়ে কৃষকরা ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি পুরো বছরের সংসারের খরচ জমা করেন। 
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মানেশ দে জানান, চলতি মৌসুমে দোহাজারী পৌরসভার চাগাচর, লালুটিয়া, জামিজুরী, শঙ্খ নদের চরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৬০ হেক্টর জমিতে শিমের চাষ হয়েছে; যা গত মৌসুমের তুলনায় ৩০ হেক্টর বেশি। প্রতি মৌসুমেই শিম চাষ বাড়ছে এবং এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আজাদ হোসাইন বলেন, ‘পাহাড়, নদী ও সমতল ভূমি ঘেরা এই এলাকায় ব্যাপক মৌসুমি সবজি চাষ হয়। শীতকালীন সবজির জন্য চন্দনাইশ ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের ‘শস্যভান্ডার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। মূলা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ অন্যান্য সবজির পাশাপাশি শিম চাষও দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এখানে।’

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News