গফরগাঁওয়ে রেলপথে অগ্নিসংযোগে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ৮ ট্রেন আটকা

Date: 2025-12-31
news-banner

ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকায় রেলপথে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার ঘটনায় ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার বিকেল ৪টা থেকে শুরু হওয়া এ অচলাবস্থায় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্টেশনে ৫টি আন্তঃনগর ও ৩টি কমিউটারসহ ৮টি ট্রেন আটকা পড়েছে। 

রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যালিং পয়েন্ট ও যন্ত্রাংশ পুড়ে যাওয়ায় এ ধরেন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম। 

পুলিশ ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে রেললাইনের বিভিন্ন পয়েন্টে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে লাইনের সিগন্যালিং ব্যবস্থা ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেনগুলো থামিয়ে দেওয়া হয়।

রাত ৮টার দিকে গফরগাঁওয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে রেললাইনের ওপর ট্রাক দিয়ে মাটি ফেলে দেয় তারা। ফলে রেল চলাচল ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ স্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস, জামালপুর এক্সপ্রেস এবং মহুয়া কমিউটার থেমে রয়েছে। এছাড়া ঢাকাগামী আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ফাতেমা নগর স্টেশনে এবং ৪৮নং কমিউটার ট্রেনটি আউলিয়ার নগর স্টেশনে আটকা পড়ে আছে। অন্যদিকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ অভিমুখী আন্তঃনগর যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসসহ ১টি কমিউটার ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে আছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেললাইনের ওপর থেকে মাটি সরানো ও ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশগুলো মেরামত করতে ইতিমধ্যে কারিগরি দল কাজ শুরু করেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় লাইন পুনরায় সচল করতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে। এই সময়ের মধ্যে আটকা পড়া ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে শীতের রাতে আকস্মিক ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা স্টেশনে আটকা পড়ে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করছেন। অনেকেই বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও সড়কপথেও নানা প্রতিবন্ধকতা থাকায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। 

ময়মনসিংহ স্টেশনে আটকা পড়া অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসের যাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সামিয়া রহমান বলেন, ‘আমার কাল সকালে ঢাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা আছে। ময়মনসিংহ স্টেশনে ট্রেন ছাড়ার অপেক্ষায় বসে আছি ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এখন শুনছি লাইন মেরামত করতে আরও সময় লাগবে। সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে আমার একটা বছর নষ্ট হয়ে যাবে।’ 

​আউলিয়ার নগর স্টেশনে ৪৮নং কমিউটার ট্রেনের যাত্রী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন, ‘বাজারের মালামাল নিয়ে ট্রেনে উঠেছিলাম। এখন শুনছি গফরগাঁওয়ে নাশকতা হয়েছে। মাঝপথে এভাবে আটকা পড়ে জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। রাত বাড়ছে, চারপাশটা এখন অনিরাপদ মনে হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষও ঠিকঠাক কিছু বলতে পারছে না কখন চলাচল স্বাভাবিক হবে।’

ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের সুপার আব্দুল্লাহ আল হারুন সমকালকে বলেন, ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে ৩টি ট্রেন আটকে আছে। এতে যাত্রী ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এগুলো ঠিকঠাক করতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে। 

নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম জানান, বর্তমানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে অনেক যন্ত্রাংশ পুড়ে যাওয়ায় রেল কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়েছে। দ্রুততার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। 

এর আগে, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চুকে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গফরগাঁও। দলীয় হাইকমান্ডের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী মুশফিকুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমানের সমর্থকরা গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রেললাইনে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেন এবং স্টেশন মাস্টারকে কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে তালা দিয়ে দেয়।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News