সিওপিডি বা হাঁপানি সাধারণত নিয়ন্ত্রণযোগ্য হলেও পালমোনারি ফাইব্রোসিস ফুসফুসের এমন একটি রোগ, যা ওষুধে পুরোপুরি সারানো যায় না। এতে ফুসফুস ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যায় এবং তার কোষ ক্ষয় হতে থাকে। এই রোগ এক বা দুই দিনে হয় না; বরং দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে ফুসফুস ক্ষয় পায়।
যদি সিওপিডি বা হাঁপানি থাকে, তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় বেশি সতর্ক থাকা জরুরি।
ঘন ঘন ঠাণ্ডা লাগা, নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা দূষিত পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকা ফাইব্রোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়। ধূমপান, প্যাসিভ স্মোকিং, বাতাসের ধুলো বা সিলিকার মতো উপাদান ফুসফুসে ঢুকে তার কোষ ক্ষয় করতে পারে। তবলাবাদক উস্তাদ জাকার হুসেনও এই রোগে প্রয়াত হয়েছেন।
ফাইব্রোসিসে ফুসফুসের কোষ ক্রমশ শক্ত ও পুরু হয়ে যায়, ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা শুরু হয়।
রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয় এবং ফুসফুস তার নমনীয়তা হারায়। শ্বাসনালী এবং অ্যালভিওলি (ফুসফুসের ছোট বায়ু থলি) পুরু ও শক্ত হয়ে শ্বাসকষ্ট এবং পালমোনারি হাইপারটেনশন ঘটায়। দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রও বিকল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
লক্ষণ:
সামান্য হাঁটাচলা বা হালকা ব্যায়ামেও শ্বাসকষ্ট
বছরভর শুকনো কাশি
ক্লান্তি বা দুর্বলতা
সাধারণ সর্দি বা ইনফ্লুয়েঞ্জার সময় সমস্যা বেড়ে যাওয়া
এই রোগের নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
স্থায়ী মুক্তি পেতে ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা ছাড়া উপায় নেই, যা ব্যয়বহুল এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। তবে কিছু ওষুধ আছে, যা ফুসফুসের ক্ষয় ধীর করে এবং শ্বাসকষ্ট কমাতে সাহায্য করে।
সতর্কতা:
শীতের সময় দূষণ বেশি থাকে, তাই মাস্ক ব্যবহার জরুরি।
ঠাণ্ডা লাগানো যাবে না।
সামান্য জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
নিয়মিত শ্বাসের ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
সূত্র: আনন্দবাজার