আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই ভোটকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলার ঘরে ঘরে এখন উৎসবের আমেজ। দীর্ঘদিন পর ভোটের পরিবেশ পেয়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরেছেন শত শত গার্মেন্টসকর্মী ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ। এই আনন্দকে রাঙাতে সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী দই-মিষ্টির দোকানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন শাহনাজ পারভীন ও জলি আকতার। মঙ্গলবারই তারা ঢাকা থেকে তাড়াশের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছেন। বুধবার দুপুরে তাড়াশ পৌর বাজারে দই ও মিষ্টি কিনতে আসা শাহনাজ বলেন, ‘অনেকদিন পর বাড়ির সবাই মিলে উৎসব আমেজে ভোট দেব। তাই বাড়িতে ভালো রান্নাবান্নার আয়োজন চলছে। খাবারের মেনুতে দই-মিষ্টি না থাকলে কি আর হয়!’
তাড়াশ বাজারের বিভিন্ন মিষ্টির দোকান ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই দই ও মিষ্টি কেনার ধুম পড়েছে। বিক্রেতাদের মতে, এই বিক্রি ঈদের সময়কেও ছাড়িয়ে গেছে। শুভ হোটেলের মালিক সুকুমার ঘোষ জানান, স্বাভাবিক দিনে যেখানে ২৫-৩০ খুঁটি দই বিক্রি হয়, আজ দুপুর দেড়টার মধ্যেই ৬৫ খুঁটির বেশি বিক্রি হয়ে গেছে। মিষ্টি বিক্রেতা ইয়ার আলী ও জীবন ঘোষ জানান, চাহিদার কথা মাথায় রেখে যা স্টক করেছিলেন, তা বিকেলের আগেই শেষ হয়ে গেছে। ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
নারায়ণগঞ্জ থেকে ভোট দিতে আসা তনিমা খাতুন বলেন, ‘গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ভোটের পরিবেশ এখন পর্যন্ত বেশ ভালো। শহর থেকে ভাইবোনরা সবাই এক হয়েছি। এই মিলনমেলায় মিষ্টিমুখ করাটা এখন আমাদের উৎসবের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
ব্যবসায়ী আবু সাইদ জানান, ভোটের আগের দিন দই-মিষ্টির এমন নজিরবিহীন বিক্রি আগে কখনও দেখা যায়নি। মূলত ভোটারদের মনে ভোট দেওয়ার প্রবল আগ্রহ এবং ঘরে ফেরা মানুষের উপস্থিতির কারণেই বাজারের এই রমরমা অবস্থা। সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের এই জনপদে এখন শুধু ভোটের আলোচনা নয়, বরং ঘরে ঘরে উৎসব আর রসনাবিলাসের ধুম লেগেছে।