সারাদেশে ভোটের টান টান উত্তেজনা চলছে। কোন এলাকায় কোন প্রার্থী জিতবে, কোন প্রার্থী হারবে তা নিয়েও মানুষের মনে উৎকণ্ঠা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখনো চলছে প্রচারণা, নানান আয়োজন। এসময় সবাই মোবাইল, ল্যাপট্যাপ, ট্যাবলেটে মুখ গুঁজে থাকছে। দিনের সিংহভাগ কাটাচ্ছে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। অধিক স্ক্রিন টাইম চোখের বারোটা বাজায়। দীর্ঘ সময় একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে মাথাব্যথা শুরু হয়, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, এমনকি চোখ জ্বালা করে।
কতটা স্ক্রিন টাইম নিরাপদ?
বয়স, স্ক্রিনের ধরন, আলো এবং চোখের স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে আপনার জন্য কতটা স্ক্রিন টাইম গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৪-৫ ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম নিরাপদ। তবে নির্দিষ্ট সময় পর পর বিরতি নিতে হবে। ৬-১৮ বছর বয়সীদের জন্য প্রতিদিন প্রায় দুই ঘন্টা স্ক্রিন টাইম নিরাপদ। ২-৫ বছরের শিশু হলে প্রতিদিন এক ঘণ্টা পর্যন্ত স্ক্রিন টাইম নিরাপদ।
যেভাবে স্ক্রিনটাইম নিয়ন্ত্রণ করবেন
• সারাদিন ফোনে নির্বাচনের খবরাখবর দেখার মাঝে খানিকটা সময় বিরতি নিন। ১৫-২০ মিনিট বারান্দায় দাঁড়ান। বারান্দার গাছেদের দিকে খানিকটা সময় থাকিয়ে থাকুন। সূর্যের আলোতে কিছুটা সময় কাটান। প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটালে নার্ভাস সিস্টেম শান্ত হবে, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
• স্ট্রেস থেকে মুক্তি পেতে ঘরেই সাধারণ কিছু ব্যায়াম করুন। অধিক স্ক্রিন টাইমের কারণে ব্রেন কানেক্টিভিটির ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা দূর করতে সাহায্য করে ব্যায়াম। এতে রক্ত চলাচল বাড়বে, হরমোনাল ইমব্যালেন্স ঠিক হবে। চাইলে বাড়ির বাইরে খানিকটা সময় হাঁটাচলাও করতে পারেন। এতে দীর্ঘ সময় বসে থাকার ফলে শরীরে যে আড়ষ্টতা তৈরি হয়, তা দূর হবে।
• কিছুক্ষণ পরপর বিরতির অ্যালার্ট চালু করতে পারেন। এতে টানা অনেকক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে প্রযুক্তিই আপনাকে বাধা দেবে।
• ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে গ্যাজেট দূরে রাখুন। কেননা স্মার্টফোন, কম্পিউটারের স্ক্রিন থেকে তৈরি ব্লু লাইট ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। ঘুমানোর আগে বই পড়তে পারেন।