ডিজিটালের পথে আরেক ধাপ এগুলো চট্টগ্রাম বন্দর। কনটেইনার টার্মিনাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ও প্রবেশ গেট ডিজিটাল করার পর এনবিআর, কাস্টমস ও পোর্ট সংক্রান্ত সব সেবার জন্য পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো (সিপিএ স্কাই) চালু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর ফলে জাহাজ আগমন সংক্রান্ত তথ্য, পণ্য ডেলিভারি ও খালাস কার্যক্রমে সমন্বিত গতি আসবে। কমবে জটিলতাও। আগে যে কাজে পাঁচ দিন লাগত এখন তা আধাঘণ্টায় হবে।
বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আগে যে কাজগুলো ফিজিক্যালি করতে হতো, টেবিলে, ডেস্কে, কাস্টমস, ব্যাংক, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডের কাছে যেতে হতো এখন সেই কাজগুলো ডিজিটাল প্লাটফর্মে হচ্ছে। যার ফলে আমাদের সময় বেঁচে যাবে। ফার্স্ট হবে কার্গো ডেলিভারি। জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম অনেক কমে আসবে। এতে আমাদের ফিজিক্যাল মুভমেন্ট কমে যাবে। কিন্তু কাজের গতি বাড়বে।’
চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে ডিজিটাল মেরিটাইম লজিস্টিক করিডোরে সরাসরি সংযুক্ত হলো। কাস্টমসের ইজিএম, আইজিএম কাজগুলো এখন অনলাইনে সমন্বয় করা যাবে। জাহাজ আগমনের তথ্যও জানা যাবে দ্রুত।
জানা গেছে, বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম এক ছাতার নিচে আনতে কাজ চলছে অনেক দিন ধরেই। একটা ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো হচ্ছে পুরো দেশের জন্য। সেটি এনবিআর করছে। আরেকটি মেরিটাইম সিঙ্গেল উইন্ডো হচ্ছে। সেটা ডিজি শিপিং করছে। বন্দর করেছে পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম। এখানে সব সংস্থা সংযুক্ত। এখানে সবাই এক প্লাটফর্মে এসেছে। মঙ্গলবার পোর্টের সিঙ্গেল উইন্ডো উদ্বোধন করেন বন্দর চেয়ারম্যান।
বন্দর জানায়, নতুন সিস্টেমে অ্যাকাউন্টবিলিটি নিশ্চিত হবে। আগে অ্যাকাউন্টিবিলিটির প্রশ্ন থাকত। অনেক সময় মিস ম্যানেজমেন্ট হতো। ডেলিভারি প্রক্রিয়ায় দেরি হতো। এর কারণে ভোক্তারা অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতো। এখন টার্ন অ্যারাউন্ড টাইমসহ টোটাল প্রোডাক্টিভিটি বেড়ে যাবে। এ প্লাটফরম তৈরিতে বন্দরকে সহযোগিতা করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)।
বন্দরে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম অনলাইন আছে। এনবিআরের অ্যাসাইকুডা সিস্টেমস আছে। কিন্তু বন্দরে এতদিন পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো ছিল না।
বন্দর ব্যবহারকারী ও মিউচ্যুয়াল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারভেজ আহমেদ বলেন, আগে আমদানি পণ্য দেশে আনার পর ডেলিভারি প্রক্রিয়া শুরু হতো। কাস্টমস ফরমালিটি, গেটপাস করে ডেলিভারি হতো। এখন লোড পোর্ট থেকে অনলাইন প্লাটফর্মে হবে। ২৪ ঘণ্টা ৭ দিন যেখান থেকে ইচ্ছে কাজগুলো করা যাবে। আমাদের অফিশিয়াল ফাংশন হবে ডিজিটাল। এটা আমাদের সবার সময় বাঁচাবে, কাজের গতি বাড়াবে।’