ভোটযাত্রায় ঈদের ভিড়, চরম ভোগান্তিতেও উৎসব

Date: 2026-02-19
news-banner

ভোট দিতে লাখো মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে যাচ্ছেন। নির্বাচনী উৎসবে শামিল হতে ঈদযাত্রার মতো যাত্রীর ঢল নেমেছে রাজধানীর বাস, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে। নির্বাচনী দায়িত্বের জন্য প্রশাসন অধিকাংশ বাস রিকুইজিশন করায়, যানবাহনের সংকটে গতকাল মঙ্গলবার চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা বলছেন, এমন ভিড় হবে তা চিন্তার মধ্যে ছিল না। সংকট লাঘবের চেষ্টা করা হচ্ছে। 

নির্বাচন উপলক্ষে এবার চার দিন ছুটি। গতকাল ছিল শেষ কর্মদিবস। তবে আগের দিন রাত থেকেই বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশনে মানুষের ঢল নামে। একদিকে বাস সংকট, অন্যদিকে যাত্রীর ঢল। এই সুযোগে বাসে দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। 
এত ভোগান্তির মধ্যেও উৎসব করে কোটি ভোটার শহর ছেড়ে যাচ্ছেন ভোটাধিকার প্রয়োগে। যাত্রীবোঝাই ট্রেন, বাস ও লঞ্চগুলো থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন প্রতীকের স্লোগান। কেউ স্লোগান দেন– ধানের শীষ, কেউ দাঁড়িপাল্লা। যানজটে থেমে থাকা যানবাহন থেকেও আসে নানা স্লোগান। 

বাস কম, ভাড়া বেশি 
মহাখালী বাস টার্মিনালে বিকেল সাড়ে ৫টায় গিয়ে দেখা যায়, ইউনাইটেড পরিবহন ও বিলাস পরিবহনের সামনে কয়েক হাজার যাত্রীর সারি। কেউ কেউ আট ঘণ্টা ধরে অপেক্ষায় ছিলেন টিকিটের জন্য। কাউন্টার থেকে কর্মীরা মাইকে বারবার ঘোষণা দিচ্ছিলেন, যানজটের কারণে গাজীপুর থেকে বাস ঢাকায় ফিরতে পারছে না। কোম্পানিগুলোর অধিকাংশ বাস নির্বাচনের ডিউটির জন্য জেলা প্রশাসন রিকুইজিশন করেছে। তাই যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত বাস নেই। 
শামীম ইসলাম নামের এক যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার বারবার আহ্বান জানাচ্ছেন ভোটাররা যেন ভোট দেন। কিন্তু গ্রামে ফেরার কোনো ব্যবস্থাই করেনি। কীভাবে লাখ লাখ মানুষ ভোট দেবে? 
শুধু মহাখালী নয়, গাবতলী টার্মিনালেও ছিল যাত্রীর ঢল। বেশি ভাড়া নেওয়ায় সেখানে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মানিকগঞ্জগামী সেলফি পরিবহনে ১৮৮ টাকার ভাড়া  ৪০০ টাকা নেওয়ায় ৫০ হাজার, জলঢাকাগামী রানী পরিবহনে ৯৫০ টাকার জায়গায় এক হাজার ২০০ টাকা নেওয়ায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সায়েদাবাদ টার্মিনালেও ছিল একই চিত্র। সেখানে ট্রাক ভাড়া করেও অনেককে গ্রামে যেতে দেখা যায়। 

ট্রেন ঠাঁই নেই, ছাদে স্লোগান 
গত সোমবার রাত থেকে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোয় তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে হইহুল্লোড়ে গ্রামে যাচ্ছেন ভোটাররা। টিকিট না পাওয়ায় তীব্র ভোগান্তি হলেও অনেকে বলছেন, ঈদের আনন্দ হচ্ছে। গতকাল দুপুর দেড়টায় ছেড়ে যাওয়া ময়মনসিংহ-নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে যাত্রীদের দাঁড়ানোরও জায়গা ছিল না। পরে শত শত যাত্রী ছাদে উঠে পড়েন। নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিয়েও যাত্রীদের ঠেকাতে পারেননি। 

দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের ভেতর ও ছাদ থেকে যাত্রীদের ধানের শীষ এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। 
যাত্রীদের ভোগান্তির দায় স্বীকার করেছেন সড়ক পরিবহন ও রেল মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি সমকালকে বলেন, ‘সত্যি বলতে, এত মানুষ গ্রামে যাবেন ভাবনায় ছিল না। তাই প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। এখন চেষ্টা চলছে ভোগান্তি লাঘবের। অতীতের নির্বাচনে কখনও এমন ঢল ছিল না। রিকুইজিশন করা বাসগুলো নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত যাত্রী পরিবহনে দেওয়া যায় কিনা, চেষ্টা করছি। 

চট্টগ্রামসহ সব শহরে একই চিত্র, যানজট 
নির্বাচনের কাজে চট্টগ্রামে যানবাহন রিকুইজিশন করায় সেখানেও ছিল চরম ভোগান্তি। গতকাল বিকেল ৩টার দিকে নগরীর গরীবউল্লাহ শাহ মাজার এলাকায় দূরপাল্লার বাসস্ট্যান্ডে দেখা গেছে, টিকিটের জন্য হাহাকার। 
গাজীপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এই শিল্প এলাকাও ছাড়ছে লাখো মানুষ। সোমবার ছিল কলকারখানাগুলোর শেষ কর্মদিবস। বেতন পেয়ে শ্রমিকরা ছুটে যাচ্ছেন গ্রামে। এ কারণে গতকাল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট ছিল। 
উপচে পড়া ভিড় ছিল পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটেও। শিবালয় (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও যাত্রীরা ফেরি পাননি। সাভার প্রতিনিধি জানান, যাত্রীর চাপে দিনভর যানজট ছিল এই এলাকার মহাসড়কে। 
কুমিল্লা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলা ট্রাফিক পুলিশ অন্তত সাড়ে পাঁচ হাজার যানবাহন রিকুইজিশন করেছে। এতে ভোট দিতে যাওয়া যাত্রীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। গাড়ি না পেয়ে বাড়তি ভাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও লেগুনায় যেতে বাধ্য হন যাত্রীরা। 

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News