নেতাকর্মীর বহর নেই, নেই স্লোগানমুখর মিছিল। হাতে নিজের পোস্টার, হেঁটে গ্রাম থেকে পাড়া, পাড়া থেকে মহল্লা– এভাবেই ভোট চাইছেন আতিকুল ইসলাম। প্রতীক মাছ। সঙ্গী বলতে কেবল নিজের বিশ্বাস আর ভোটারদের চোখে চোখ রেখে বলা কিছু কথা। নেতাকর্মীহীন এই প্রচারে নিরাশ করেননি ভোটাররাও। অনেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভোট দেওয়ার। গাজীপুরের নির্বাচনের মাঠে আতিকের এই দৃশ্য অনেকের চোখে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-১ ও গাজীপুর-২ আসনে গণফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন আতিকুল ইসলাম। বাড়ি গাজীপুর মহানগরের চান্দনার বসির রোড এলাকায়।
আতিকুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘদিনের। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে শুরু করে মেয়র পদ, এমনকি সংসদ নির্বাচন– প্রতিটি স্তরেই তিনি ছিলেন প্রার্থী। ২০১৮ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে পরাজয়ের পর ওই বছর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-১ আসনে গণফ্রণ্টের প্রার্থী হন। ২০২৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পান ১৬ হাজার ৯৭৪ ভোট। এবারও সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। তাও আবার একটি নয়, দুটি আসনে।
এসএসসি পাস আতিকুল ইসলাম রাজনীতিকে দেখেন ভিন্ন চোখে। তাঁর ভাষায়, ওয়ার্ড উন্নয়ন মানেই দেশ উন্নয়ন। তিনি মনে করেন, স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে অনিয়ম আর একচেটিয়া ক্ষমতার রাজনীতি ভাঙতে না পারলে সাধারণ মানুষের মুক্তি সম্ভব নয়। সেই ভাঙনের সংগ্রামেই বারবার নির্বাচনে নামা।
সমকালকে আতিকুল ইসলাম বলেন, আমি সংসদে যেতে চাই জনগণের কথা বলতে। জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াই করতে। দুর্নীতিকে জাদুঘরে পাঠাতে চাই। বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই আমি ছুটে চলেছি। শিক্ষা খাত নিয়েও তাঁর উদ্বেগ স্পষ্ট। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্ম শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে পড়ছে। এই জায়গাটা নিয়ে আমি কাজ করতে চাই।
একাই প্রচার চালানো প্রসঙ্গে আতিকুল ইসলামের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস, জনগণই তো আমার শক্তি। যেখানে যাচ্ছি, সাড়া পাচ্ছি। গত সিটি নির্বাচনে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন। তাহলে আমি একা হলাম কীভাবে?
নির্বাচনী ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি জানান, পোস্টার থেকে শুরু করে প্রচার– সব খরচে সহযোগিতা করেছেন আত্মীয়স্বজন ও সাধারণ মানুষই। তিনি বলেন, জনগণই আমার পোস্টার লাগায়।
তিনি বলেন, গাজীপুর-১ ও ২ আসনে মাছ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। জনগণকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে, জনগণের মুক্তির জন্যই আমার এই ছুটে চলা। বৈষম্যহীন একটি সমাজ বিনির্মাণে অংশীদার হওয়ার প্রত্যয় নিয়েই বারবার নির্বাচনে অংশ নেই।