চতুর্মুখী লড়াইয়ে আ.লীগের ভোট ব্যাংকে নজর প্রার্থীদের

Date: 2026-02-06
news-banner

ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, মধুখালী, আলফাডাঙ্গা) আসনটি আওয়ামী লীগের আসন হিসেবে পরিচিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর জয়-পরাজয়ে আওয়ামী কর্মী-সমর্থকদের ভোট বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ কারণে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকে দৃষ্টি রেখে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। 
ফরিদপুর-১ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ৫ হাজার ৭০২। নির্বাচনী এলাকার তিন উপজেলার মধ্যে বোয়ালমারীতে এক লাখ ৮৪ হাজার ১৪২ জন। মধুখালীতে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৭০ জন এবং আলফাডাঙ্গায় এক লাখ ৩ হাজার ৭৯০ জন। আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বেশি ভোট হচ্ছে আলফাডাঙ্গাতে। 

এ আসনে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন ৯ প্রার্থী। তারা হলেন– বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মো. ইলিয়াস মোল্যা, জাতীয় পার্টির সুলতান আহমেদ খান, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির মৃন্ময় কান্তি দাস এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান, আবুল বাশার খান, হাসিবুর রহমান, গোলাম কবীর মিয়া এবং শেখ আব্দুর রহমান জিকো। স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, নির্বাচনে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম (ধানের শীষ), মো. ইলিয়াস মোল্যা (দাঁড়িপাল্লা), আরিফুর রহমান দোলন (জাহাজ) ও আবুল বাশার খান (ফুটবল)’র মধ্যে চতুর্মুখী ভোটযুদ্ধ হবে। 
আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং হাসিবুর রহমানের বাড়ি বোয়ালমারী; মো. ইলিয়াস মোল্যা ও আবুল বাশার খানের বাড়ি মধুখালী; স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলনের বাড়ি আলফাডাঙ্গা। 

নির্বাচনের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের দিকে শুরুতেই হাত বাড়িয়েছেন খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। তপশিল ঘোষণার আগে থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীকে কাছে টেনে নিয়েছেন। আলফাডাঙ্গার দুই এবং বোয়ালমারীর তিন চেয়ারম্যান নাসিরুল ইসলামের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের কয়েকজন পদধারী নেতাকেও দলে ভিড়িয়েছেন তিনি। আরও কয়েকজন চেয়ারম্যান ও নেতা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। 
গোপনে জামায়াত প্রার্থীও আওয়ামী লীগের ভোট টানার চেষ্টা করছেন। জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাচ্ছেন– আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে নেই। তাই শান্তি ও উন্নয়নের জন্য আপনারা ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিন। ধর্মীয় অনুভূতিও ব্যবহার করছেন তারা। অপরদিকে আরিফুর রহমান ও বাশার খান উভয়ই আওয়ামী ঘরানার লোক হিসেবে পরিচিত। তাঁরা উভয়েই আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক দিয়ে নির্বাচনে জিততে চাচ্ছেন। 

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক চন্দনার সম্পাদক হাসান ফিরোজ বলেন, ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের ভোট সবচেয়ে বেশি।  স্বাভাবিকভাবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী ভোটাররা একটা বড় ফ্যাক্টর, যদি তারা ভোট দিতে যান। তাই নির্বাচনে জিততে প্রার্থীরা আওয়ামী ভোট টানার চেষ্টা করছেন। 
ফরিদপুর জজকোর্টের অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগের ভোটাররা যদি কেন্দ্রে যান তাহলে নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে তাদের ভোট অন্যতম অনুঘটক হতে পারে। সে জন্য প্রার্থীদের দৃষ্টি রয়েছে আওয়ামী ভোট ব্যাংকে। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন। জামায়াতে ইসলামীও নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আওয়ামী ভোটারদের  ভোট নেওয়ার চেষ্টা করছে। 
স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা এনসিপির সাবেক আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। তাদের এখানে ভোট বেশি থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। নির্বাচনে প্রার্থীদের এই ভোট টানার চেষ্টা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। নানা কারণে আওয়ামী লীগের ভোটাররা ভিন্ন ভিন্ন দিকে ঝুঁকছে।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News