জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, একটি বড় রাজনৈতিক দল মুখে জাতীয়তাবাদের কথা বললেও বাস্তবে কৌশলে বিদেশি নাগরিকদের নির্বাচনে এমপি প্রার্থী করেছে।
আজ রোববার সকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘মার্চ ফর দাঁড়িপাল্লা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, যেভাবে শীতকালে চীন, রাশিয়া ও সাইবেরিয়া থেকে অতিথি পাখি বাংলাদেশে আসে, ঠিক সেভাবেই নির্বাচন এলে কিছু বিদেশি নাগরিক এসে প্রার্থী হয়। নির্বাচন শেষ হলে আবার তারা বিদেশে উড়ে যায়।
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, শাহজাদপুর একটি তাঁত ও দুগ্ধ শিল্পের ঐতিহাসিক জনপদ হলেও বিগত দিনে বুর্জোয়া শাসনব্যবস্থার কারণে এখানকার তাঁতশিল্পের প্রকৃত সুফল শ্রমজীবী মানুষ পায়নি। বরং মধ্যস্বত্বভোগীরাই শ্রমের ফসল ভোগ করেছে।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সিরাজগঞ্জ-৬ শাহজাদপুর আসনে শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিয়ে এস এম সাইফ মোস্তাফিজ ভাইকে বিজয়ী করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা এনসিপির রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে আগ্রাসন, ফেলানীর হত্যাকাণ্ড কিংবা শুষ্ক মৌসুমে অতিরিক্ত পানিতে দেশের মানুষ ডুবে যাওয়ার মতো ঘটনায় বড় দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ভিশন’ না থাকায় বা নীরবতার বিষয়েও সমালোচনা করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ফ্যাসিবাদ ও তার দোসরদের পুনরাগমন ঠেকাতে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে। কিন্তু একটি দল প্রকাশ্যে ‘হা’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালেও কর্মীরা গোপনে গোপনে না ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে। এ ধরনের অভিসন্ধিমূলক নীতির বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের প্রার্থী এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার।
পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমানসহ অন্য নেতারা।