মার্কিন যুদ্ধজাহাজের পাশে ইরানের সামরিক মহড়া

Date: 2026-02-02
news-banner

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ নৌবহর মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে ইরান নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনে হরমুজ প্রণালিতে দুই দিনব্যাপী সরাসরি গুলিবর্ষণসহ সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে।

আজ রোববার শুরু হতে যাওয়া এ মহড়াকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে। এ ঘোষণার পর মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, মার্কিন রণতরীর ওপর দিয়ে ইরানের ড্রোন বা বিমানের উড্ডয়ন তারা সহ্য করবে না। 

গতকাল বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি আবারও উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কারণ ইরান একটি সামরিক মহড়া শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রণালিতে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে। ইরান এরই মধ্যে জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছে, তারা রবি ও সোমবার এ প্রণালিতে সরাসরি গোলাগুলির মহড়া চালাবে।

বিশ্বের সব তেলের এক-পঞ্চমাংশ ইরান ও ওমানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সংকীর্ণ করিডোর হরমুজ প্রণালি দিয়েই যায়। এ মহড়ার কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

কঠোর সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রের
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের অভিজাত ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস-আইআরজিসিকে সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে ‘অনিরাপদ কর্মকাণ্ড সহ্য করবে না’। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড বা সেন্টকম বলেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের রণতরীর ওপর দিয়ে ওড়ানের মতো ‘অনিরাপদ’ কৌশল মেনে নেবে না। জাহাজের সঙ্গে ইরানের স্পিডবোটগুলোর সংঘর্ষও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।

‘ইরানের প্রতিশোধ পরিকল্পনা বিস্তৃত ও উন্নত’
লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিনের মতে, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি শামখানি বলেছেন, ইরান যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘কার্যকর প্রতিরোধমূলক’ প্রতিক্রিয়া দেবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বার্তা স্পষ্ট– শত্রুর পক্ষ থেকে শত্রুতাপূর্ণ অভিপ্রায়ের ইঙ্গিত দেওয়া যে কোনো আন্দোলনের প্রতি আনুপাতিক, কার্যকর ও প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।’ 

প্রতিবেশীরা যুদ্ধ চায় না
তেহরান থেকে আলজাজিরার রেসুল সেরদার আতাস বলেন, ইরানের প্রতিবেশীরা যুদ্ধ ঠেকাতে কূটনৈতিক চেষ্টার মধ্যে রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। তুরস্ক ছাড়াও কাতার ও অন্যান্য দেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News