সরকারি ছয় ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে ধরা পড়েছেন সাদ্দাম হোসেন নামের এক ব্যক্তি। তিনি মাজহারুল ইসলাম নামে এক প্রার্থীর হয়ে গতকাল মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দায়িত্বরতরা ম্যাজিস্ট্রেটের শরণাপন্ন হলে তিনি কেবল মুচলেকার ভিত্তিতে ছেড়ে দিয়েছেন।
বর্তমানে সরকারি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়ের তত্ত্বাবধানে। সরকারি ছয়টি ব্যাংকের মোট এক হাজার ২৬২টি শূন্য পদে অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগের প্রথম ধাপ হিসেবে গতকালের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় অংশ নেন ৪১ হাজার ৫৩৫ জন। ঢাকার ২৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনের জন্য পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ ছয়টি কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ডালিয়া নওশিন লুবনা।
জানা গেছে, পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক স্বাক্ষর যাচাই করতে গিয়ে বিষয়টি ধরতে পারেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নিশ্চিত হন পঞ্চগড়ের মো. সাদ্দাম হোসেন ফরিদপুরের মো. মাজহারুল ইসলামের হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। সাধারণভাবে এ ধরনের ঘটনায় সর্বোচ্চ দুই বছরের জেল, অর্থদণ্ড, সরকারি চাকরিতে নিষিদ্ধসহ বিভিন্ন শাস্তি হয়। তবে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে মুচলেকার ভিত্তিতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুচলেকায় সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘শনিবার ক্যাশ অফিসার পরীক্ষায় আমি একটি গর্হিত অপরাধ করেছি। আমি এই অপরাধ অনুধাবন করতে পেরেছি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল আর কখনও করব না। না হলে আইন আমলে আসবে।’
প্রক্সি দিতে আসা সাদ্দাম হোসেনের বাড়ি পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার দক্ষিণ তোড়িয়া গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে ২০১৮ সালে স্নাতক ও ২০১৯ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। আর মাজহারুল ইসলামের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সত্যের কান্দা গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ থেকে ২০১৫ সালে স্নাতক ও ২০১৬ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। দুজনের মধ্যে বয়সের তফাত রয়েছে প্রায় তিন বছর।
পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টরা জানান, অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার একটি অসাধু চক্র গড়ে উঠেছে। টাকার বিনিময়ে গোপন চুক্তির ভিত্তিতে প্রক্সি, প্রশ্ন ফাঁস কিংবা ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষায় পাস করানোর দায়িত্ব নেয় ওই চক্র। এ ধরনের ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক কঠোর। তবে তারা শাস্তি দিতে পারে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, সরকারি কর্ম কমিশন আইন অনুযায়ী কেউ প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা পড়লে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেক তাকে অর্থদণ্ড, দুই বছরের জেল কিংবা উভয় দণ্ড দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কেন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের বোধগম্য নয়।
জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডালিয়া নওশিন লুবনা সমকালকে বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমি ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আপনি (প্রতিবেদক) চাইলে অফিসে এসে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে পারেন।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, এ ধরনের ঘটনা ধরা পড়লে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে দেওয়া হয়।