টেলিযোগাযোগকে শুধু বাণিজ্যিক খাত হিসেবে দেখলে চলবে না

Date: 2026-02-02
news-banner

দীর্ঘ স্থবিরতার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে বহুদিন ঝুলে থাকা সংস্কার উদ্যোগ আবার আলোচনায় এসেছে। তবে কর ভার, নীতিগত অনিশ্চয়তা ও অমীমাংসিত বিরোধের মতো কাঠামোগত সমস্যাগুলো এখনও বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের পথে বড় বাধা হয়ে আছে বলে মনে করছেন গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমান।

সম্প্রতি সমকালসহ একাধিক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, টেলিকম খাত গত এক বছরে নীতিগতভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি সমন্বিত টেলিকম লাইসেন্সিং নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত, সাতশ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম নিলামের প্রস্তুতি, সেবার মানসংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা এবং নতুন টেলিযোগাযোগ আইন প্রণয়ন। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য সুযোগ তৈরি করলেও নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে এনেছে।

ইয়াসির আজমান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্ত অপারেটরদের কার্যক্রম কিছুটা সহজ করেছে। এর মধ্যে নেটওয়ার্ক বা সিম-লকড হ্যান্ডসেট বিক্রির অনুমতি, সেবা প্যাকেজের সংখ্যা নির্ধারণে সীমা প্রত্যাহার, ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে কলের সুযোগ এবং ডার্ক ফাইবার লিজ ব্যবহারের অনুমোদন উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্ত নেটওয়ার্ক সক্ষমতা ও গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নয়নে সহায়ক হবে।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে তিনি অতিরিক্ত কর ও আর্থিক চাপের কথা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, করপোরেট কর, মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক, রাজস্ব ভাগ, সামাজিক দায় তহবিলসহ বিভিন্ন খাত মিলিয়ে গ্রাহকের ব্যয়ের বড় অংশ সরকারের কাছে চলে যায়। এই পরিস্থিতিতে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ কমে যাচ্ছে, যা শুধু একটি কোম্পানির নয়; পুরো খাতের সমস্যা।
নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আর্থিক বিরোধ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন গ্রামীণফোন প্রধান। তিনি বলেন, প্রায় তিন দশকের কার্যক্রমে একটি বার্ষিক নিরীক্ষা বিরোধও নিষ্পত্তি হয়নি, যা বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে অনিশ্চিত করে তুলছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে আন্তর্জাতিক সালিশ প্রক্রিয়ার কথা বলেন তিনি এবং জানান, এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন ইয়াসির আজমান। উল্লেখযোগ্য বাজারক্ষমতাসম্পন্ন অপারেটর হিসেবে প্রতিটি নতুন পণ্য বা সেবার জন্য দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়ার মুখে পড়তে হয় বলে তিনি জানান। এতে বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত নতুন সেবা চালু করা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্পেকট্রাম ইস্যুতেও তিনি বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গির ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, সাতশ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের নিলাম গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তির চাহিদা সীমিত। দেশের বাজারে স্বল্পসংখ্যক পঞ্চম প্রজন্মের ডিভাইস থাকায় আগে চতুর্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা জরুরি। বিশেষ করে ভবনের ভেতরে ও গ্রামীণ এলাকায় কাভারেজ বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
ইয়াসির আজমান মনে করেন, টেলিযোগাযোগ খাতকে কেবল বাণিজ্যিক খাত হিসেবে দেখলে চলবে না। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ডিজিটাল সেবা ও অর্থনীতির বিস্তারে এই খাতের ভূমিকা অপরিহার্য। তাঁর ভাষায়, নীতিগত স্থিতিশীলতা, ন্যায্য প্রতিযোগিতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি না হলে দেশের ডিজিটাল উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হবে।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News