তুরুপের তাস হতে পারেন তরুণ ভোটাররা
Date: 2026-02-02
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রচার-প্রচারণায় উত্তাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে–এমনটাই মনে করছেন ভোটাররা।
চট্টগ্রামের প্রবেশ দ্বার ও শিল্পাঞ্চল খ্যাত সীতাকুণ্ড গুরুত্বপূর্ণ আসন। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা ও চট্টগ্রাম সিটির আকবর শাহ ও পাহাড়তলীর আংশিক এলাকা নিয়ে এ আসন গঠিত।
তরুণ ও সংখ্যালঘু ভোট
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের ভোটার সংখ্যা বেড়েছে ১৬ হাজার ৬৯ জন। পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৯ হাজারে। ফলে এই দুই শ্রেণির ভোটার যে পক্ষকে সমর্থন দেবে, তারাই এগিয়ে থাকবে– এমন ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
সীতাকুণ্ড পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অমলেন্দু কনক বলেন, ‘গত নির্বাচনে হিন্দু ভোটার ছিল ৬৭ হাজারের বেশি, এবার দুই হাজার বেড়েছে। সংখ্যালঘু ভোটাররা তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বিবেচনা করে ভোট দেবেন।’
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ
নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-৪ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৮২০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ৮০৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১২ জন। পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যা ৫ হাজার ১৩৯।
এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২৪টি। এর মধ্যে সীতাকুণ্ড পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১০৮টি এবং চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী ও আকবরশাহ এলাকায় ১৬টি কেন্দ্র অবস্থিত।
ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেহেদী হাসান জানান, তিন ক্যাটেগরিতে মোট ৪৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে জঙ্গলসলিমপুর এলাকার দুটি কেন্দ্র সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। ওই এলাকায় সম্প্রতি র্যাবের এক ডিএডি হত্যাসহ একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তার ও দখলদারিত্বকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর সংঘর্ষে পরিস্থিতি উত্তপ্ত বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে।
ভোটের সমীকরণ
এ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন– বিএনপির আসলাম চৌধুরী (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী (দাঁড়িপাল্লা), কমিউনিস্ট পার্টির মো. মছিউদ্দৌলা (কাস্তে), ইসলামী ফ্রন্টের মো. সিরাজুদ্দৌলা (মোমবাতি), বিএসপির শহীদুল ইসলাম চৌধুরী (একতারা), গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম (মাথাল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কারী দিদারুল মাওলা (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের এ টি এম পারভেজ (ট্রাক) এবং নেজামে ইসলাম পার্টির জাকারিয়া খালেদ (বই)।
দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর স্ত্রী-সন্তানরাও যাচ্ছেন ভোটারদের ধারে ধারে। প্রকাশ্যে বড় কোনো বিরোধ না থাকলেও বিএনপির ভেতরে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ রয়েছে। দলের মনোনয়ন নিয়ে শুরুতে বিভক্তি দেখা দিলেও এখন সবাই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছে বলে দাবি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো. মোরছালীনের।
অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরীর রয়েছে শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি। তিনি বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তন চায়। জামায়াতে ইসলাম সেই পরিবর্তনের প্রতীক।’ নারী ভোটার ও শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মী বাহিনীই তাদের বড় শক্তি বলে তিনি দাবি করেন। স্থানীয়দের মতে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটের একটি অংশ পেতে উভয় পক্ষই নানাভাবে চেষ্টা করছে।
কমিউনিস্ট কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মছিদদৌলার বলেন, ‘এবার ভোটাররা ভোটদানের সুযোগ পেলে প্রচলিত রাজনীতির বাইরে গিয়ে রায় দিতে পারেন। আমি নির্বাচিত হলে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করব।’

