‘নীরব ভোটার’ বদলে দিতে পারে সমীকরণ
Date: 2026-02-02
টানেলের জনপদ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে ভিন্ন সমীকরণে এগুচ্ছে ভোটের রাজনীতি। তিনবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের বিপরীতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার চেষ্টায় রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদুল হাসান চৌধুরী। লড়াইয়ে থাকার জন্য মরিয়া বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থী ইসলামী ফ্রন্টের নেতা এসএম শাহজাহানও। এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা আছে। স্থানীয়দের ধারণা, ফলাফল নির্ধারণে নীরব ভোটাররাও বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন। এখানে ভোটার প্রায় চার লাখ।
জুলাই বিপ্লবের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসায় এবার আগের মতো একক আধিপত্য নাও থাকতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পরিবর্তিত বাস্তবতায় বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে তাদের মত। সরওয়ার জামাল প্রচারণায় খুব বেশি আগ্রাসী নন। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদুল হাসান চৌধুরী নিয়মিত মাঠে নেমে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, মাজার ও পীর দরবার অনুসারীদের আধিক্যের কারণে ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এসএম শাহজাহানও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুর রব চৌধুরী, এনডিএমের মোহাম্মদ এমরান ও ইনসানিয়াত বিপ্লব পার্টির মু রেজাউল মুস্তাফার তেমন কোনো প্রচারণা নেই।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৫ হাজার ২৪৬ জন। এর মধ্যে আনোয়ারা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৬০ হাজার ১৮৩ জন এবং কর্ণফুলী উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে রয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩ জন। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১৮টি। ১৬টি ভোটকেন্দ্রকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে প্রশাসন।
এই আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুল হাসান চৌধুরী, বৃহত্তর সুন্নী জোটের এসএম শাহজাহান, জাতীয় পার্টির আব্দুর রব চৌধুরী, এনডিএমের মোহাম্মদ এমরান ও ইনসানিয়াত বিপ্লব পার্টির মু রেজাউল মুস্তাফা।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সাংসদ সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, ‘আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম তখন এই আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে অনেক শিল্পকারখানা করেছি। আগামীতেও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি সেক্টরে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়ন করা হবে।’
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে তরুণ-যুবকদের রক্তের বিনিময়ে আজ এই নির্বাচন। তাই আমরা সরকার গঠন করলে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে তরুণ-যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং তাদের সব ধরনের অধিকারের ব্যবস্থা করব।’
বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থী এসএম শাহজাহান বলেন, ‘গত ৫৪ বছরে অনেক সরকার দেখা হয়ে গেছে। মানুষের ভোট নিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করেছেন তারা। বেড়িবাঁধের বালু–পাথর লুট করেছে। এসব লুটেরাদের যেমন ছাড় নেই, তেমনি যারা আল্লাহর অলিদের শানে বেয়াদবি করে, মাজার ভাঙ্গার রাজনীতি করে তাদেরও রক্ষা নেই। মোমবাতি প্রতীকে ভোট দিয়ে মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে এসবের জবাব দেবেন।
বিএনপি সমর্থক লোকমান উদ্দিন বলেন, ‘অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে সরওয়ার জামাল নিজাম সাধারণ ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক শক্তির কারণে এবারও তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে আমার বিশ্বাস। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে মাঠে রয়েছেন।’
জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী কুসুম বলেন, ‘তাদের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান চৌধুরী আনোয়ারা-কর্ণফুলী অঞ্চলের পরিচিত মুখ। বিগত এক বছর ধরে নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাওয়ায় এবার তার পক্ষে নিরব ভোট বিপ্লব হতে পারে।’
বৃহত্তর সুন্নী জোটের সমর্থক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আনোয়ারা-কর্ণফুলী পীর-আউলিয়ার অঞ্চল হওয়ায় সুন্নি ভোট ব্যাংক এবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা এস. এম. শাহজাহানের ব্যক্তিগত ইমেজ ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তাই তার বড় শক্তি। ’

