রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়। বিদেশে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী দিলীপ ওরফে বিনাশের নির্দেশে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে নরসিংদীর মাধবদী থেকে মো. রহিম নামে এক শুটারকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। এ সময় তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মাধবদী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। এ নিয়ে মুছাব্বির হত্যা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। তিনি জানান, মুছাব্বিরকে গুলি করেন দুজন। তাদের মধ্যে জিন্নাতকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজনই টাকার বিনিময়ে গুলি চালান বলে দাবি করেছেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই। চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারে আশ্রয় নেয়। কারওয়ান বাজার এলাকায় ৮-৯টি গ্রুপ চাঁদা তোলে। চাঁদাবাজির এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার জন্য তারা চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালাচ্ছেন।
ডিবিপ্রধান আরও জানান, আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ডিবি ওয়ারী বিভাগের একটি দল শুক্রবার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, সাত রাউন্ড গুলি, একটি মোটরসাইকেলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন–রানা মোল্লা ও নূর মোহাম্মদ।
গত ৭ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরীপাড়া এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।