আমার দেশের মানুষ জান্নাতি, দরকার ১২ তারিখে বড় ধাক্কা: ডা. শফিকুর রহমান
Date: 2026-01-26
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে জামায়াত প্রথমে তিনটি কাজ করবে– দুর্নীতি নির্মূল, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গত ৫৪ বছরের দুঃশাসনের অবসান। শনিবার উত্তরাঞ্চল সফরের অংশ হিসেবে বগুড়া, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় পৃথক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ দেশের জনগণ রাজনৈতিক নেতাদের চেয়ে অনেক ভালো। আমার দেশের মানুষ জান্নাতি, ভালো মানুষ। শুধু দরকার ১২ তারিখে বড় ধাক্কা।’
তিনি আরও বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি এবং ‘না’ মানে গোলামি। না ভোট জয়যুক্ত হলে আবার গোলামি ও ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে।
দুপুরে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে ১০ দলীয় জোট আয়োজিত জনসভায় তিনি বলেন, আপনারা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে প্রথমে হ্যাঁ ভোট দেবেন। তারপর দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন। জুলাই শহীদের আত্মার শান্তির জন্য আমাদের হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। তাদের অছিলায় আমরা আজ কথা বলতে পারছি, তাদের কথা ভুলে গেলে চলবে না।
১১ মিনিটের বক্তৃতায় জামায়াত আমির নারীদের বিষয়ে বলেন, ‘অনেকে অপপ্রচার চালাচ্ছে– আমরা ক্ষমতায় গেলে নারীদের উন্নতি হবে না, এটা ভুল ধারণা। আমাদের নবী করিম (সা.) নারীদের নানা কাজে লাগিয়েছেন। এমনকি যুদ্ধের ময়দানেও নারীরা ভূমিকা রেখেছেন। আমরাও রাষ্ট্রের নানা কাজে নারীদের সম্পৃক্ত করব। নারীদের অধিকার চাকরি সব ব্যবস্থাই করা হবে। পুরুষদের পাশাপাশি আমাদের মায়েরা যোগ্যতার সঙ্গে দেশ গড়ার কাজে অংশ নেবেন। তারা নিশ্চিন্তে ইজ্জত নিয়ে চলাফেরা করবেন। রাসুল (সা.)-এর জমানায় নারীরা যেমন নিরাপদে ছিলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে তেমনি নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে।’
ডা. শফিকুর রহমান বগুড়ার উন্নয়নে কয়েকটি প্রতিশ্রুতি দেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বগুড়াকে সিটি করপোরেশন, গাইবান্ধা-সারিয়াকান্দি সেতু নির্মাণ এবং বগুড়ার শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা।
এর আগে ডা. শফিকুর রহমান বগুড়ার মোকামতলা মহিলা কলেজ মাঠে পথসভায় বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে আমরা ঢাকায় সরকারি প্লট নেব না। বিদেশি গাড়ি আমদানি করব না। শুল্কমুক্ত গাড়ি নেব না। হাঁটব, রিকশায় চড়ব, বাইসাইকেলে চলব।’
রক্তের সঙ্গে বেইমানি নয়
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে অর্থের বিনিময়ে বিচার কেনা যায় না। ধনী-গরিব সবার সমান অধিকার হবে। ধর্মে ধর্মে সংঘাত হবে না।’
ফসল ও সবজি সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি। এ জন্য সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে। সারা বছর দেশের মানুষ ন্যায্য দামে কৃষিপণ্য পাবেন বলে আশ্বাস দেন।
গাইবান্ধার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, একটি ইপিজেড, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বালাসীঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাটে টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
আবু সাঈদের কবর জিয়ারত
সকালে রংপুরের পীরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং শহীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।
তরুণদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ যেন তোমাদের ভোট নিয়ে হেলাফেলা করতে না পারে, এ জন্য জুলাইযোদ্ধা হয়ে তোমাদের আরেকবার লড়তে হবে।’
জুলাই আন্দোলনের সুফল চাইলে হ্যাঁ ভোট
সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে বিকেলে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, জামায়াত-জোট ক্ষমতায় গেলে তাঁতিদের দুরবস্থা ঘুচবে, গো-খামারিরা দুধের কাঙ্ক্ষিত ন্যায্য দাম পাবেন। এ অঞ্চলে গুঁড়া দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণে কারখানা বসানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে যমুনায় প্রকৃত খনন কাজ করা হবে। খননকাজের বালু দিয়ে দুই পারে স্থায়ী সুরক্ষা প্রকল্প নেওয়া হবে।’
এ ছাড়া বিকেলে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সরকারি আকবর আলী কলেজ মাঠে নির্বাচনী পথসভায় তিনি বক্তব্য রাখেন।
এবার নাক পরিষ্কার করুন
বিএনপির নাম উল্লেখ না করে দলটির নেতাদের দুর্নীতির প্রতি ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আপনারা অনেক নাক গলিয়েছেন, এবার সর্দির ঝাড়ে নাক পরিষ্কার করুন। আর নাক গলাবেন না।’
পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে রাতে একাত্তরে সংগঠিত মানবতাবিরোধী যুদ্ধে দণ্ডিত নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পাবনার মাটি শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও শহীদ মাওলানা আব্দুস সুবহানের জন্মস্থান। তারা এখানে মানুষের সেবা করেছেন। তাদের খুন করা হয়েছে।’
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন পাবনা অফিস এবং গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও পীরগঞ্জ প্রতিনিধি)

