বাগদেবী সরস্বতীর আরাধনায় গতকাল শুক্রবার দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সূচনা ঘটেছিল। শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের অগণিত মানুষ বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে কল্যাণময়ী দেবীর পাদপদ্মে প্রণতি জানান ভক্তরা। দেশব্যাপী এ বিপুল আয়োজনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলে সরস্বতী পূজায় ছিল ‘মবতন্ত্রবিরোধী’ থিম। এতে সামাজিক ও দলবদ্ধ সহিংসতা ও গুজবনির্ভর উন্মাদনার ক্ষতিকর দিকগুলো প্রতীকী শিল্পকর্মের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
সরস্বতী পূজা উপলক্ষে বাণীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সব নাগরিকের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
সারাদেশের মন্দির ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুক্রবার সাড়ম্বরে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়। মণ্ডপে মণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও হাতেখড়ি, প্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা আরতি, আলোকসজ্জা ও মেলা বসে। এ উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। বিভিন্ন টিভি চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার ও সংবাদপত্রগুলোয় বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ হয়।
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সরস্বতী পূজায় হাজার হাজার ভক্ত উপস্থিত হন। সকাল ৬টায় প্রতিমা স্থাপন, ৮টায় পূজা এবং সাড়ে ৯টায় পুষ্পাঞ্জলি প্রদান শেষে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ঢাক-ঢোল-কাঁসর ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয় মন্দির প্রাঙ্গণ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণের বিশাল খেলার মাঠজুড়ে সরস্বতী পূজা আয়োজিত হয়। রোকেয়া হল ও শামসুন্নাহার হলসহ অন্য হলগুলোতেও পূজা উদযাপিত হয়েছে। জগন্নাথ হলে দুই দিনব্যাপী সরস্বতী পূজা উৎসবের প্রথম দিন শুক্রবার মূল পূজা ছাড়াও ভক্ত-দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। আজ শনিবার দ্বিতীয় দিনে কনসার্টের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুদিনের আয়োজন।
এবার জগন্নাথ হল মাঠে ৭৬টি মণ্ডপে পূজা হয়েছে। একে বলা হচ্ছে, ‘একই স্থানে সর্বাধিক সংখ্যক সরস্বতী প্রতিমার পূজা।’ এটা নথিভুক্ত করার জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জগন্নাথ হল ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত প্রামাণিক।
ঢাবির ফাইন্যান্স বিভাগ মণ্ডপ সাজিয়েছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের আদলে আলোকসজ্জা ও আল্পনায়। ইংরেজি বিভাগ হাতে এঁকে মণ্ডপ নির্মাণ করে। চারুকলা অনুষদ পুকুরে মঞ্চ বানিয়ে পূজার আয়োজন করে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেও বর্ণাঢ্য আয়োজনে পূজা উদযাপন হয়। গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ মন্দিরে পূজা ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রমেও পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি দেওয়া হয়।
এ ছাড়া স্বামীবাগের ইসকন, জয়কালী, ঠাঁটারীবাজার, বিহারি লাল জিউ, রাধাগোবিন্দ জিও ঠাকুর, রাধামাধব বিগ্রহ, মিরপুর, তালতলা, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন মন্দির, সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূজা উদযাপন হয়।