তাড়াশ উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে চলছে হরিলুট। উপজেলার অন্তত অর্ধডজন গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের নির্মাণ ও সংস্কারকাজ মাঝপথে ফেলে রেখে চলে গেছেন ঠিকাদাররা। কাজ ফেলে চলে যাওয়ার কারণ হিসেবে তারা প্রকৌশল অফিসের ওপর দায় চাপিয়েছেন।
অন্যদিকে প্রকৌশল অফিস বলছে, কাজের অর্ধেকের চেয়ে কম অগ্রগতি হলেও চাতুরিপনার আশ্রয় নিয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ বিল তুলে নিয়েছেন ঠিকাদাররা।
এদিকে সরকারি অর্থের অপচয় আর ঠিকাদার-প্রকৌশলী দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জরুরি ভিত্তিতে এসব সড়কের কাজ আবার শুরু করা না হলে এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে তদন্তসাপেক্ষে দোষী ঠিকাদারদের কালো তালিকাভুক্ত করা এবং এ অনিয়মে প্রশাসনের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তাড়াশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ওশান এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাব্বির কনস্ট্রাকশন, হাসনা কনস্ট্রাকশন এবং মেসার্স সার্চ ট্রেডিংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কোটি কোটি টাকার কাজ পায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চাঁদপুর-নামা সিলেট সড়ক, বিনোদপুর-বিনসাড়া সড়ক এবং নওগাঁ মাজার রোডসহ অধিকাংশ সড়কের কাজ মাত্র ৫০-৬০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ঠিকাদাররা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বা যোগসাজশ করে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিল উত্তোলন করে নিয়েছেন। বর্তমানে সড়কগুলোতে কোনো শ্রমিক নেই, এমনকি ঠিকাদারদের বেসক্যাম্পও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। খোয়া বিছানো অবস্থায় দীর্ঘ এক বছর পড়ে থাকায় অধিকাংশ রাস্তা এখন চলাচলের অনুপযোগী।
বেহাল রাস্তার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিনসাড়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক মো. মোমিনুল ইসলাম জানান, আংশিক কাজ করে ফেলে রাখায় পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতে সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে। কুসুম্বী গ্রামের বাসিন্দা গৌতম কুমার বলেন, বিনোদপুর-বিনসাড়া সড়কের কার্পেটিং তুলে ঠিকাদার আজ এক বছর লাপাত্তা। খোয়া উঠে গিয়ে এখন ছোট-বড় দুর্ঘটনা প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ নওগাঁ রঙমহল এলাকার বাসিন্দা আরব আলীর অভিযোগ, রাস্তাটি মূল সড়ক থেকে নিচু করে খোয়া বিছিয়ে রাখা হয়েছে, যা বৃষ্টির দিনে মরণফাঁদে পরিণত হয়।
কাজ ফেলে চলে যাওয়ার কারণ হিসেবে ঠিকাদাররা প্রকৌশল অফিসের ওপর দায় চাপিয়েছেন। হাসনা কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মো. খোকনসহ একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, উপজেলা প্রকৌশল অফিসের তদারকি কর্মকর্তাদের ঘাটে ঘাটে বড় অঙ্কের উৎকোচ দিতে হয়। এই অতিরিক্ত অর্থ দিতে গিয়ে তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন এবং কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ‘ঠিকাদাররা কার্যাদেশ পাওয়ার পর সামান্য কাজ করেই অতিরিক্ত বিল তুলে নিয়েছেন। এখন তারা আরও বাড়তি টাকা দাবি করছেন, যা অনৈতিক। কাজ শেষ করার জন্য আমরা তাদের ২০-২২ বার চিঠি দিয়েছি, কিন্তু তারা কোনো তোয়াক্কা করছেন না।’ তাঁর মতে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু ঠিকাদার অনিয়ম ধামাচাপা দিতে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন।