ইরানের বিরুদ্ধে সহজ ‘জয়’ পাওয়ার পথ নেই ট্রাম্পের
Date: 2026-01-19
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সহজে তাঁর লক্ষ্য অর্জন করতে চান। কিন্তু ইরানের আদর্শিক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের জয়ের কোনো সহজ পথ নেই। কারণ, ইরান পশ্চিমা শক্তির হুমকির বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। একদিকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে সামরিক হুমকি– সব দিকের পরিস্থিতিই সামলাতে হচ্ছে তেহরানকে। ইরানের টিকে থাকার এই লড়াই বহুমাত্রিক হওয়ায় ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বিশ্লেষকরা এই মতামত ব্যক্ত করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বোমা হামলা ইরানের জন্য বড় আঘাত ছিল। এর আগে ২০২০ সালে শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। এসব আঘাতের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এখনও বড় ধরনের প্রতিশোধ নিতে চায়, যা তাদের লড়াইকে আরও বেগবান করে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যা করে ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো কঠিন হতে পারে। এমন ঘটনা ঘটলে বিশ্ব পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীলতার দিকে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র এবং তা এই অঞ্চলের জন্য বিপর্যয়কর হবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ থিঙ্ক ট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের বিশিষ্ট ফেলো বারবারা স্লাভিন বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো বিকল্প বেশ ভয়ংকর। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের দেয়ালে পিঠ ঠেকানোর মতো অবস্থা করে, তাহলে এই অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের বিরুদ্ধ তেহরান আরও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ‘দেশটি আমাকে বলেছে, তারা কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে না। ৮০০ মৃত্যুদণ্ড বাতিল করায় তাদের প্রতি গভীর সম্মান জানাই। গতকাল যেসব ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো বাতিল করেছে ইরান। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ।’
ট্রাম্পকে থামাতে ইরানের প্রতিবেশীদের তোড়জোড়
ইরানে সরকার পতন বা মার্কিন হামলায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হোক, তা আরব উপসাগরের দেশগুলো চায় না। উপসাগরীয় দেশগুলোর বড় ভয়– ট্রাম্প যদি সত্যি সত্যি ইরানে হামলা চালিয়ে বসেন, তাহলে পুরো অঞ্চল একটা নৈরাজ্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানে হামলা থেকে বিরত থাকে, সেজন্য সৌদি আরব তদবির চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছেন কাতার ও ওমানের কূটনীতিকরা। গত বুধবার ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়ার পরেই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ায় সৌদি আরব, ওমান ও কাতার। সৌদি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইর বলেন, আমাদের লক্ষ্য শান্তি নিশ্চিত করা।
ইরানে ইন্টারনেট সংযোগের সামান্য উন্নতি
ইরানে ইন্টারনেট ২০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়েছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, শনিবার সকালে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগে খুব সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। তেহরানের পশ্চিমে অবস্থিত কারাজের এক বাসিন্দা বলেন, তিনি লক্ষ্য করেছেন, শনিবার ভোর ৪টায় ইন্টারনেট ফিরে এসেছে। বিদেশে থাকা কয়েকজন ইরানি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছেন, তারা শনিবার ভোরে ইরানের ব্যবহারকারীদের বার্তা পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন।
নিহত ৩০০০ ছাড়িয়েছে, দাবি পশ্চিমা অধিকার সংস্থার
ইরানের দেশব্যাপী বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ। সংস্থাটি তিন হাজার ৯০ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তাদের মধ্যে দুই হাজার ৮৮৫ জন বিক্ষোভকারী। রয়টার্সের কাছে বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, রাজধানী তেহরান চার দিন ধরে তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে। শহরের ওপর দিয়ে ড্রোন উড়ছিল, কিন্তু বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়নি।

