অর্ধেকের বেশি রেমিট্যান্স তিন জেলায়

Date: 2026-01-19
news-banner

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১ হাজার ৬২৬ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৮ শতাংশ বেশি। এই রেমিট্যান্সের অর্ধেকের বেশি এসেছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা জেলায়। গত ৬ মাসে এই তিন জেলায় এসেছে ৮৫৬ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের ৫২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষ ১০ জেলার মধ্যে এরপরের অবস্থানে রয়েছে সিলেট, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, টাঙ্গাইল ও মুন্সীগঞ্জ। এ সময়ে এক কোটির ডলারেরও কম 
এসেছে লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায়। 

ব্যাংকাররা জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলে দুই উপায়ে প্রবাসী আয় দেশে আসে। এর একটি হলো সরাসরি সুবিধাভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। আরেকটি ক্যাশ পিকআপ। এ পদ্ধতিতে প্রবাসীর আইডি ও ট্রানজেকশন নম্বর দিয়ে যে কোনো ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করার সুবিধা পান সুবিধাভোগী। ব্যাংকের মাধ্যমে যে এলাকার অ্যাকাউন্ট ও ক্যাশ পিকআপের ক্ষেত্রে যে এলাকা থেকে উত্তোলন করা হয়, ব্যাংকগুলো ওই এলাকার রেমিট্যান্স হিসেবে রিপোর্ট করে। নাগরিক সুবিধাসহ বিভিন্ন কারণে ঢাকার পরেই 
চট্টগ্রামে বেশি মানুষের বসবাস। আবার অনেক আগ থেকে কুমিল্লাসহ রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষস্থানীয় জেলার একটি। 

৭১ শতাংশ রেমিট্যান্স ১০ জেলায়
প্রবাসী আয় পাঠানোয় শীর্ষ ১০ জেলায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ১ হাজার ১৫৪ কোটি ডলার এসেছে। মোট প্রবাসী আয়ের যা ৭০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এর মধ্যে ঢাকা জেলায় এসেছে ৬২৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চট্টগ্রামে ১৩৯ কোটি ৬১ লাখ এবং তৃতীয় কুমিল্লায় ৮৭ কোটি ৮৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এ ছাড়া সিলেটে ৬৯ কোটি ৮৬ লাখ, নোয়াখালী ৪৯ কোটি ৪ লাখ, ফেনী ৪৫ কোটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৪০ কোটি ৭০ লাখ, চাঁদপুর ৩৬ কোটি ১০ লাখ, টাঙ্গাইল ২৯ কোটি ৫১ লাখ ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় ২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার এসেছে। এসব জেলার জীবনযাত্রার মান ও 
ব্যয় করার সক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রে অন্য জেলার তুলনায় বেশি। 

এক শতাংশের কম ১০ জেলায়
চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে এক কোটিরও কম রেমিট্যান্স এসেছে চারটি জেলা থেকে। এসব জেলাসহ সর্বনিম্ন প্রবাসী আয় আসা ১০টি জেলায় এসেছে ১৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। মোট রেমিট্যান্সের যা প্রায় শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ। এ তালিকার সবচেয়ে কম ৮২ লাখ ডলার এসেছে লালমনিরহাট জেলায়। পঞ্চগড়ে ৯২ লাখ, রাঙামাটি ৯৪ লাখ ও বান্দরবান জেলায় এসেছে ৯৯ লাখ ডলার। এছাড়া খাগড়াছড়িতে ১ কোটি ৪৮ লাখ, ঠাকুরগাঁওয়ে ১ কোটি ৬০ লাখ, শেরপুরে ১ কোটি ৯৫ লাখ, নীলফামারীতে ২ কোটি ৬ লাখ, জয়পুরহাটে ২ কোটি ২৭ লাখ ও কুড়িগ্রামে ২ কোটি ৫২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, কোনো একটি এলাকার মানুষ একবার যেখানে যাওয়া শুরু করে আশপাশের লোকজনও সেই দেশে বেশি যায়। আবার কিছু এলাকা আছে, যেখানে মানুষ বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ দেখায় না। অনেক জেলার লোকসংখ্যা কম। সব মিলিয়ে রেমিট্যান্স আসায় জেলাভিত্তিক এতো তারতম্য হয়। এতে মানুষের জীবনযাত্রায়ও তফাৎ দেখা দেয়। সরকারি উদ্যোগে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে জেলা কোটা চালু করা যেতে পারে। এছাড়া যেসব এলাকার লোক প্রবাসে কম সেখানে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্নভাবে দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাইরে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
এদিকে প্রবাসী আয়ে শীর্ষ ১০ জেলার পরে আরও ১৭টি জেলা রয়েছে; যেখানে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ১০ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজারে ২৫ কোটি ৩৪ লাখ, নারায়ণগঞ্জে ২৫ কোটি ৫ লাখ, মাদারীপুরে ২৪ কোটি ৩২ লাখ, লক্ষ্মীপুরে ২৪ কোটি ১২ লাখ, নরসিংদীতে ২৩ কোটি ১৫ লাখ, কিশোরগঞ্জে ২২ কোটি ১৬ লাখ ও গাজীপুরে ২১ কোটি ৯৩ লাখ ডলার এসেছে। এর পরের ধাপে থাকা জেলার মধ্যে হবিগঞ্জে ১৭ কোটি ৬৯ লাখ, সুনামগঞ্জে ১৭ কোটি ১৫ লাখ, শরীয়তপুরে ১৬ কোটি ৩৯ লাখ, ফরিদপুরে ১৫ কোটি ৮৯ লাখ, বরিশালে ১৪ কোটি ৬৫ লাখ, ময়মনসিংহে ১৩ কোটি ৭৭ লাখ, মানিকগঞ্জে ১৩ কোটি ৫০ লাখ, যশোরে ১২ কোটি ৭১ লাখ ও বগুড়ায় ১০ কোটি ৬০ লাখ ডলার এসেছে।

প্রবাসী আয়ে এসব জেলার পরে রয়েছে ২৮টি জেলা। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় ৯ কোটি ৭৯ লাখ, পাবনায় ৯ কোটি ৫৬ লাখ, কক্সবাজারে ৮ কোটি ৮০ লাখ, জামালপুরে ৮ কোটি ১৩ লাখ, খুলনায় ৭ কোটি ৬২ লাখ, গোপালগঞ্জে ৭ কোটি ৪৪ লাখ, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭ কোটি ২৮ লাখ, সিরাজগঞ্জে ৬ কোটি ৮৪ লাখ, ঝিনাইদহে ৬ কোটি ৭৭ লাখ, ভোলায় ৬ কোটি ৭৫ লাখ, রাজশাহীতে ৬ কোটি ২ লাখ, চুয়াডাঙ্গায় ৫ কোটি ৯৩ লাখ, রাজবাড়ীতে ৫ কোটি ৯২ লাখ, সাতক্ষীরায় ৫ কোটি ৬২ লাখ, মেহেরপুরে ৫ কোটি ৩৮ লাখ, পিরোজপুরে ৫ কোটি ৮ লাখ, বরগুনায় ৫ কোটি ৩ লাখ ও নওগাঁয় ৫ কোটি ২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। 
এর পরের ধাপে থাকা জেলার মধ্যে বাগেরহাটে ৪ কোটি ৪৩ লাখ, গাইবান্ধায় ৩ কোটি ৯৮ লাখ, রংপুরে ৩ কোটি ৮৬ লাখ, পটুয়াখালীতে ৩ কোটি ৮১ লাখ, নাটোরে ৩ কোটি ৬৬ লাখ, নেত্রকোনায় ৩ কোটি ৫১ লাখ, মাগুরায় ৩ কোটি ৩৮ 
লাখ, দিনাজপুরে ৩ কোটি ৬ লাখ, ঝালকাঠিতে ২ কোটি ৯৯ লাখ ও নড়াইলে ২ কোটি ৮৪ লাখ ডলার এসেছে।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News