ফ্রিল্যান্সিং যেসব চ্যালেঞ্জে পড়েছে

Date: 2026-01-19
news-banner

বাংদেশের গত এক দশকের অর্থনৈতিক গল্পের অন্যতম এক সফল উপাখ্যানের নাম ‘ফ্রিল্যান্সিং’। কোনো প্রথাগত অফিস নেই, নেই যানজট ঠেলে কর্মস্থলে যাওয়ার যন্ত্রণা; শুধু একটি ল্যাপটপ আর ইন্টারনেট সংযোগকে পুঁজি করে লাখো তরুণ ঘরে বসে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। ২০২৬ সালের শুরুতে এসে সেই উজ্জ্বল ছবিতে কিছুটা ধূসর ছোপ দেখা যাচ্ছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সার তরুণ গ্রাফিক ডিজাইন, লোগো তৈরি, ডেটা এন্ট্রি বা সাধারণ কনটেন্ট রাইটিংয়ের মতো কাজে অভ্যস্ত। মন্দার সময়ে ক্লায়েন্টরা প্রথমেই এই ধরনের ‘নন-এসেনশিয়াল’ বা অপরিহার্য নয় এমন কাজ বন্ধ করে দেয়। মন্দার সঙ্গে যোগ হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইর বিপ্লব। যে কাজের জন্য ক্লায়েন্ট আগে ৫০ ডলার খরচ করে একজন ফ্রিল্যান্সারকে খুঁজতেন, এখন তিনি নিজেই তা এআই দিয়ে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে সেরে নিচ্ছেন। আমাদের ফ্রিল্যান্সারদের একটি বড় অংশ ‘লো-অ্যান্ড স্কিল’ বা সাধারণ মানের দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। অথচ ভারত, ভিয়েতনাম বা ফিলিপাইনের ফ্রিল্যান্সাররা অনেক আগেই নিজেদের ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং এআই প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো কারিগরি দক্ষতায় রূপান্তর করে নিয়েছে। 

বৈশ্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যাও আমাদের এ সংকটে ঘি ঢালছে। ঢাকা বা চট্টগ্রামের বাইরে গেলেই ইন্টারনেটের গতি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে হাহাকার শুরু হয়। এ ছাড়া ডলারের বিনিময় হার নিয়ে অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গভাবে না আসা একজন ফ্রিল্যান্সারের জন্য সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা। যদিও আইসিটি বিভাগ ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড প্রবর্তন করেছে, কিন্তু অধিকাংশ ব্যাংক এখনও এই কার্ড বা ফ্রিল্যান্সিং ইনকামকে ঋণ পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করে না। এই তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী বা বীমা ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক দক্ষ ফ্রিল্যান্সারও পেশা ছেড়ে অন্য কোনো অনিশ্চিত পথে পা বাড়াচ্ছেন।

এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হলে আমাদের গতানুগতিক কাজের মোহ ত্যাগ করতে হবে।  সরকারের উচিত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যে হাই-টেক পার্ক বা আইটি ট্রেনিং সেন্টারগুলো আছে, সেগুলোর কারিকুলাম আমূল বদলে ফেলা। কেবল সার্টিফিকেট নয়, বরং গ্লোবাল মার্কেটের বর্তমান চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়া কূটনীতির মাধ্যমে বড় বড় টেক জায়ান্টকে বাংলাদেশে অফিস খুলতে বা সরাসরি আউটসোর্সিং করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পেপ্যাল বা সমমানের গেটওয়ে নিশ্চিত করতেই হবে।

রবিউল ইসলাম শাকিল: 

শিক্ষার্থী, ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News