জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার এবং অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ব্রুস সোয়ার বৈঠক করেছেন। শুক্রবার সকালে ভার্চুয়ালি পৃথকভাবে এই বৈঠক হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত আমির বলেন, আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় যেতে পারলে দেশটির সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন অব্যহত রাখবে।
জামায়াতের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, পারস্পরিক শুল্কহার এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
গত বছরের এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্য আমদানিতে ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। যা দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তিতে কমে ২০ শতাংশ হয়েছে। শুল্কহার সংক্রান্ত আলোচনায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (ডিএফসি) তহবিলে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকারে সমর্থনের জন্য রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারকে ধন্যবাদ জানান শফিকুর রহমান।
জামায়াত আমিরকে জেমিসন গ্রিয়ার জানান, গত সপ্তাহে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। শুল্কহার হ্রাসে আলোচনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের তুলা অথবা ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বিশেষ শুল্ক সুবিধা দেওয়ায় ধন্যবাদ জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও শিল্পখাতকে উপকৃত করবে। বাংলাদেশ শুল্ক চুক্তি চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জামায়াত সরকার গঠন করতে পারলে, এই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক পরিচালক এমিলি অ্যাশবি।
অষ্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি ব্রুস সোয়ারের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচন ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এতে অংশ নেন অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ বিষয়ক সহকারী পরিচালক স্টেসি লি ওয়াকারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।