সামনেই ২০২৬ বিশ্বকাপ। অথচ এক বছর আগেই ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়েই ফেলেছিলেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলার সময় হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পর মানসিক অবসাদে এই চরম ভাবনা এসেছিল তার মাথায়।
আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের (এএফএ) স্টুডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করেন বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। মার্টিনেজ বলেন, ‘চোটের পর প্রথম দুই-তিন সপ্তাহ আমি আর ফুটবলে ফিরতেই চাইনি। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। তখন মনে হতো সব ছেড়ে আর্জেন্টিনায় পরিবারের কাছে ফিরে যাই। আর কষ্ট নিতে চাই না।’
তবে অন্ধকারের সেই সময়ে আলো হয়ে আসে তার সদ্যজাত কন্যাসন্তান। চোটে পড়ার পরের মাসেই বাবা হন তিনি। মার্টিনেজ বলেন, ‘মেয়ের জন্মের পরই আমি প্রতিজ্ঞা করি। না, আমি হাল ছাড়ব না। সেই ছিল আমার প্রতিদিনের প্রেরণা। প্রতিটি অনুশীলনে আমি নিজের সেরাটা দিয়েছি শুধুই আমার মেয়ের জন্য।’
পরিবার ও বন্ধুদের সমর্থনে দীর্ঘ ১০ মাস পুনর্বাসন শেষে গত ২৬ ডিসেম্বর নিউক্যাসলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফিরেছেন মার্টিনেজ। চোটের সেই বিভীষিকা কাটিয়ে এখন তিনি আগের চেয়েও মানসিকভাবে শক্তিশালী। মার্টিনেজ বলেন, ‘চোটের কারণেই আজ মানুষ হিসেবে আমি অনেক বদলেছি। জীবন ও ফুটবলকে এখন নতুনভাবে মূল্য দিই।’ সব ঠিক থাকলে আসন্ন বিশ্বকাপে মেসির দলের রক্ষণ সামলাতে দেখা যাবে লিসান্দ্রোকেই।