ভারতের কাশ্মীরে বিক্ষোভের মুখে মেডিকেল কলেজ বন্ধ ঘোষণা

Date: 2026-01-17
news-banner

ভারতের জাতীয় মেডিকেল কমিশন ‘শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী মেডিকেল ইনস্টিটিউট’ নামের একটি কলেজকে বন্ধ ঘোষণা করেছে। একটি কোর্সে অধিকাংশ মুসলমান শিক্ষার্থী ভর্তি ও এর প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভের মুখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মেডিকেল কলেজটি কাশ্মীরের রিয়াসি শহরে। দান ও আংশিক সরকারি অর্থায়নে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। গত বছরের নভেম্বরে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এতে দেখা যায়, ৫ বছর মেয়াদি ব্যাচেলর ইন মেডিসিন প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া ৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জনই মুসলমান। তাদের অধিকাংশই কাশ্মীরের বাসিন্দা, সাতজন হিন্দু ও একজন শিখ। 

আলজাজিরার প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, এ তথ্য জানার পর স্থানীয় হিন্দু গোষ্ঠীগুলো প্রতিবাদ শুরু করে। তারা মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিলের দাবি তোলে। যুক্তি দেয়, যেহেতু কলেজটি মাতা বৈষ্ণো দেবী মন্দিরে ভক্তদের দান থেকে অর্থায়িত, তাই মুসলিম শিক্ষার্থীদের সেখানে ভর্তির অধিকার নেই।

কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেন, সাধারণত মানুষ তাদের এলাকায় একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে। কিন্তু এখানে লড়াই হয়েছে মেডিকেল কলেজটি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য। তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলেছে। এতে যদি আনন্দ হয়, তাহলে তা উদযাপন করুক।

কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলার পর বিজেপির আইনপ্রণেতারা কাশ্মীরের প্রশাসকের কাছে একটি চিঠি পাঠান। এতে কলেজটির আসন শুধু হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করতে বলা হয়। একই সময়ে বিক্ষোভকারীরা কলেজ বন্ধের দাবি জানান। বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করলে ৬ জানুয়ারি জাতীয় মেডিকেল কমিশন কলেজের অনুমোদন বাতিল করে। চিঠিতে বলা হয়, কলেজটি আবাসন, গ্রন্থাগারসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ নিশ্চিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ভারতে সরকারি বা বেসরকারি সব ধরনের মেডিকেলে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল এন্ট্রান্স এক্সামিনেশন টেস্টের (এনইইটি)’ মাধ্যমে। প্রতিবছর ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী এনইইটিতে অংশ নেন। যারা ন্যূনতম স্কোর অর্জন করেন তারা বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারেন।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News