জ্বালানি গ্যাসের তীব্র সংকট, মূল্যস্ফীতিসহ বেশ কয়েকটি সমস্যায় পড়েছে দেশের রেস্তেরাঁ খাত। এ ছাড়া শ্রমিক সংগঠনের পরিচয় দিয়ে হুমকি-ধমকি ও চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ মালিকরা। চলমান এসব সংকট নিরসনে সরকারের সহায়তা চেয়েছে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সমিতির নেতারা। এ সময় সংগঠনের সভাপতি ওসমান গনি, মহাসচিব ইমরান হাসানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ইমরান হাসান বলেন, দেশে এখন লুটেরা ও সাম্রাজ্যবাদীরা এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা করছে। তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়েছে। বেশির ভাগ রেস্তোরাঁ গ্যাস পাচ্ছে না। যারা কিনছেন, তারা এক হাজার ৩০০ টাকার সিলিন্ডারে তিন হাজার টাকা খরচ করছেন। পেট্রোবাংলা ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে আছে। উপদেষ্টারা এ নিয়ে কথা বলছেন না, কোনো কার্যক্রম নেই। শুধু ভোক্তা অধিদপ্তর লোক দেখানো কিছু জরিমানা করছে। তাতে হিতে বিপরীত হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিগত দিনের অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম থেকে মুক্তি মিলবে বলেই প্রত্যাশা ছিল ব্যবসায়ীদের। কিন্তু উল্টো দিন দিন নানা প্রতিবন্ধকতা বাড়ছে। নিয়ন্ত্রণহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিত্যপণ্য সাধারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে রেস্তোরাঁ খাতে। ফলে অত্যন্ত সংকটময় সময় পার করছে এ খাত।
ইমরান বলেন, বিগত সরকারের আমলে কৃত্রিমভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট দেখিয়ে রেস্তোরাঁ খাতে পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা হয়। যদিও এ খাতে মাত্র ৫ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার হতো। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আমলার যোগসাজশে আমদানি করা এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা বেসরকারি সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পাইপলাইনের গ্যাস বন্ধ করার মাধ্যমে, যারা এখন পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
এলপিজির অতিরিক্ত দামের কারণে রেস্তোরাঁগুলোর ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে উল্লেখ করে ইমরান বলেন, এর ফলে খাবারের দাম বাড়ালে গ্রাহক হারাতে হচ্ছে এবং লোকসান বেড়েই চলছে। তাছাড়া ভোজ্যতেল, ডাল, চাল ও পেঁয়াজের সংকট লেগেই রয়েছে।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতেও কিছু সরকারি কর্মচারী ও বহিরাগত ব্যক্তি শ্রমিক সংগঠনের পরিচয় দিয়ে হুমকি-ধমকি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে। অনৈতিক সুবিধা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে রেস্তোরাঁ মালিকদের ওপর শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটছে। নামে-বেনামে চাঁদাবাজি ও হুমকি বন্ধ না হলে ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না।
সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি সংকট নিরসন, ট্রেড ইউনিয়নের নামে নৈরাজ্য বন্ধ, মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা পর্যায়ে রেস্তোরাঁর খাবারের দাম সহনীয় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে পরিকল্পনা ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রেস্তোরাঁ মালিকরা।