দেশের মানুষের প্রধান উদ্বেগের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে কর্মসংস্থান। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জনগণ এখন স্পষ্ট, বাস্তবায়নযোগ্য ও কার্যকর কর্মসংস্থান পরিকল্পনা প্রত্যাশা করছে।
সোমবার ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস) যৌথভাবে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় এ বিষয় উঠে আসে। সংলাপে অংশ নেন নীতিনির্ধারক, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞরা। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের নভেম্বর ২০২৫ জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৪০.৪ শতাংশ মানুষ এক বছর আগের তুলনায় আর্থিকভাবে ভালো অবস্থায় নেই। এর মধ্যে ২৭.৪ শতাংশ কমে যাওয়া আয় ও সুযোগকে এবং ১৭ শতাংশ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন। এছাড়া ৩৭.২ শতাংশ মনে করেন রাজনৈতিক দলগুলো তরুণদের সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে না।
গোলটেবিল আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, দেশে শিক্ষিত বেকারত্ব উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিডিজবস-এর প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর বলেন, ২০১০ সালে শিক্ষিত বেকারত্বের হার ৪.৯ শতাংশ ছিল, যা ২০২২ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ শতাংশে। অন্যদিকে অশিক্ষিত বেকারত্ব কমেছে।
শ্রমবাজারে বৈপরীত্য লক্ষ্য করেছেন আকিজ-বশির গ্রুপের এইচআর ডিরেক্টর দিলরুবা এস খান। তিনি বলেন, একদিকে শিল্পকারখানাগুলো দক্ষ জনশক্তির অভাব উল্লেখ করছে, অন্যদিকে চাকরিপ্রার্থীরা কাজ পাচ্ছেন না। তিনি দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে শিল্পের চাহিদা সমন্বয় করার ওপর জোর দেন।
আরএমএমআরইউ-এর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মারিনা সুলতানা বলেন, প্রতিবছর ১১–১২ লাখ তরুণ বিদেশে যাচ্ছেন, তবে দক্ষতার ঘাটতি ও কাজ না পাওয়ায় গত বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ৪০ হাজার প্রবাসী দেশে ফিরে এসেছেন। তিনি বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির নিয়ন্ত্রণ জোরদারের আহ্বান জানান।
শিল্প খাতের উদ্বেগ তুলে ধরেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, “গত দুই বছরে কারখানার সংকট এত বেশি যে ৩৮ বছরের ইতিহাসেও এর তুলনা মেলা দায়।” কর্মসংস্থান রক্ষায় শিল্পভিত্তিক সংস্কারের প্রস্তাব দেন তিনি।
রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিএনপির পলিসি টিম সদস্য সাইয়েদ আবদুল্লাহ দক্ষতা উন্নয়ন, আইটি খাত সম্প্রসারণ, প্রবাসী ঋণ ও ভাষাশিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর ড. হাফিজুর রহমান দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, যুবঋণ কর্মসূচি ও কর সংস্কারের প্রস্তাব দেন। এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম আদীব মেধাভিত্তিক নিয়োগ, চাকরির নিরাপত্তা এবং কৃষি ও আইটি খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি বলে মন্তব্য করেন।
গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আক্তার ও করিগরের তানিয়া ওয়াহাব স্থানীয় বিনিয়োগ, শ্রমিক নিরাপত্তা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ প্রস্তাব দেন।
সংলাপটি পরিচালনা করেন টিবিএস-এর নির্বাহী সম্পাদক শাখাওয়াত লিটন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডেপুটি চিফ অব পার্টি আমিনুল এহসান। এটি আয়োজিত হয় ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের বি-স্পেস প্রকল্পের আওতায়, যেখানে অর্থায়ন করেছে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এবং জাতিসংঘের ইলেক্টোরাল প্রজেক্ট ব্যালট ও ড্রিপ।