জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাচেষ্টার এক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১১৩ জনের অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আহতদের খোঁজ না পেয়ে ‘তথ্যগত ভুল’ থাকার কারণ দেখিয়ে সম্প্রতি আদালতে মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
পিবিআই’র পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ সমকালকে বলেন, অনেক মামলা তদন্তে প্রমাণিত হলেও কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। এটি সিআর (আদালতে করা) মামলা। এ ধরনের মামলায় খরচ বহন, নিয়মিত হাজিরাসহ নানা জটিলতায় বাদী অনেক সময় মামলা পরিচালনায় অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে বাদীকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এই মালাটিতেও তেমনটা হয়ে থাকতে পারে। এতে নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলার আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও জয় ছাড়াও রয়েছেন– আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ, শামীম ওসমান, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি করা হয়। এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, পিলখানা সংলগ্ন সীমান্ত স্কয়ার থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ওই বছরের ৪ আগস্ট ধানমন্ডি–২৭ নম্বরে আহত হন সাহেদ আলী। সেইসঙ্গে ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েক শিক্ষার্থীসহ ৯ জন আহত হন। এ ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করে সাহেদের ভাই মো. শরীফ বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন। থানা পুলিশ এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন– শাকিল হোসেন ইমরান, কামরুল হাসান ওরফে কামু, মারুফ হোসেন ও মাসুদ রানা বেপারী। এরপর তদন্তভার পায় পিবিআই। তবে তদন্তকালে আহতদের খুঁজে পাননি মামলার তদন্তকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ। এ কারণে গত ৫ নভেম্বর আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, জুলাই আন্দোলনে আহতদের গেজেটে এই মামলার ভুক্তভোগীদের নাম পাওয়া যায়নি। এ কারণে আপাতত আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীকালে আহতদের তথ্য পেলে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।
চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা ভুক্তভোগীদের হাজির করতে এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র সরবরাহের জন্য বাদীর সঙ্গে দেখা করে অনুরোধ জানান। তবে দীর্ঘদিন পরও বাদী তা করেননি।
অবশ্য মামলার বাদী শরীফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। মামলার আসামিরা আমাকে হুমকিও দিয়েছে। বিচার চাওয়া কী অপরাধ?’