ইরানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার দাবি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

Date: 2026-01-15
news-banner

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে হিংসাত্মক ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ দেওয়া হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের জন্য একটি অজুহাত তৈরি করা। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।

সোমবার বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে আব্বাস আরাগচি উল্লেখ করেন, বন্ধ থাকা ইন্টারনেট শিগগিরই চালু করা হবে। এ বিষয়ে অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সরকার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। দূতাবাস ও সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর জন্যও সংযোগ পুনরায় চালু করা হবে।

বার্তা সংস্থা ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার রাতে রাজধানী তেহরানের দুটি এলাকায় সীমিত পরিসরে বিক্ষোভ হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চাহারমাহাল ও বাখতিয়ারি প্রদেশের দুটি শহরেও বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়েছিলেন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজাভি খোরাসানের তায়বাদ এলাকায় বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। রোববার রাতে অন্যান্য শহর ও প্রদেশগুলোও শান্ত ছিল।

তেহরান থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, ইরানের সরকার বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়ে চিন্তিত। অন্তত তিনজন মোসাদ এজেন্টকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিক থেকেও একাধিক হুমকি এসেছে।

কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ইরান বিশ্লেষক মেহরান কামরাভা বলছেন, দেশটিতে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল রাস্তায় গণজমায়েত ও সংগঠিত আন্দোলনকে ঠেকানো। এখন ইন্টারনেট চালুর মধ্য দিয়ে ইরানের নেতৃত্ব দেখাতে চাইছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

কামরাভার মতে, তেহরানে বর্তমানে সংকট ব্যবস্থাপনার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। তারা পরিস্থিতি প্রশমিত করতে চায়। দেখাতে চায় তাদের জনসমর্থন আছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বার্তা দিতে চায় যে, সরকারের হাতে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আছে এবং তারা আলোচনায় আগ্রহী।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News